ওঙ্কার ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের আমরোহা জেলায় রাতের অন্ধকারে একটি দ্রুতগতির গাড়ি সোজা ধাক্কা মারে জাতীয় সড়কের ধারে দাঁড়ানো একটি ট্রাকে, এবং সেই সংঘর্ষেই প্রাণ যায় চার তরুণ চিকিৎসা-শিক্ষার্থীর। প্রত্যেকেই এমবিবিএস শেষ করে ইন্টার্নশিপ করছিলেন।
ঘটনাটি ঘটে রাজাবপুর থানার অন্তর্গত একটি এলাকায়। রাতের দিকে চার বন্ধু বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেল থেকে গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছিলেন ঐ শিক্ষার্থীরা। ঘোরাঘুরি, আড্ডা বা খাওয়া-দাওয়া এই ধরনের ভাবনাতেই তারা বেরিয়ে পড়েছিলেন বলে জানা গেছে। গাড়িটি কিছু দূর এগোনোর পরই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকের পেছনে গিয়ে ধাক্কা খায়। শব্দ এতটাই প্রবল ছিল যে আশপাশের লোকজন ছুটে বেরিয়ে আসে। কিন্তু ততক্ষণে গাড়ি প্রায় ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে এবং ভেতরে আটকে পড়া চারজনের মৃত্যু হয় ঘটনাস্থলে।
পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাড়ি থেকে দেহ উদ্ধার করে। তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত হয় এবং জানা যায়, তারা সকলেই চিকিৎসা-শিক্ষা শেষ করে বর্তমানে ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করছিলেন। পরিবারগুলিকে খবর পাঠানো হয়, তারপর শুরু হয় আনুষ্ঠানিক তদন্ত। মৃতদের বন্ধু ও সহপাঠীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে শোকবিধুর পরিবেশ তৈরি হয়।
পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করছে, গাড়িটি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে চলছিল এবং রাতের অন্ধকারে রাস্তার ধারে দাঁড়ানো ট্রাকটি চালকের চোখে পড়েনি। গাড়ির ভেতরে খাবারের প্যাকেট পাওয়া গেছে। তবে দুর্ঘটনার আগে তারা কোথায় গিয়েছিলেন বা কীভাবে পরিকল্পনা করছিলেন, তা সুনিশ্চিত নয়। গাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া বস্তু ও মোবাইল ফোনের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে।
পরিবারের সদস্যরা দেহ পাওয়ার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন। কয়েক দিনের মধ্যেই প্রশিক্ষণ শেষ করে তারা চিকিৎসা জীবনে পা দিতেন। কেউ কেউ ইতিমধ্যেই চাকরির সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। কেউ উচ্চতর প্রশিক্ষণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সবাই মেধাবী, পরিশ্রমী এবং ভবিষ্যতে ভালো চিকিৎসক হবেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিহতদের স্মরণে শোকসভা করেছে। সহপাঠীরা স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলছেন, রাতের আড্ডা, ক্যানটিনের আলোচনায় তারা সবসময় ব্যস্ত থাকতেন। এমন অপ্রত্যাশিত পরিণতি কেউ ভাবতেই পারেনি।
