গন্ধরাজ ফুলের মিষ্টি মনমাতানো সুবাস কার না ভালো লাগে! বাড়ির ছাদ, বারান্দা কিংবা বাগানে একটি গন্ধরাজ গাছ থাকলে তার সাদা ফুলে চারপাশ ভরে ওঠে অপূর্ব সুগন্ধে। তবে অনেকেই জানেন না, খুব সহজেই গন্ধরাজ গাছের ডাল বা কাটিং থেকে নতুন চারা তৈরি করা যায়। সঠিক পদ্ধতিতে চারা তৈরি ও নিয়মিত পরিচর্যা করলে গাছ সুস্থ থাকে এবং প্রচুর ফুলও পাওয়া যায়।
কাটিং থেকে গন্ধরাজের চারা তৈরির পদ্ধতি:
প্রথমে একটি সুস্থ, রোগমুক্ত গন্ধরাজ গাছ থেকে ৪-৬ ইঞ্চি লম্বা আধা-কাঠযুক্ত ডাল কেটে নিন। ডালের নিচের দিকের পাতাগুলি সরিয়ে উপরের দিকে দু-একটি পাতা রাখুন। এবার একটি টবে ঝুরঝুরে মাটি, কোকোপিট ও মোটা বালি সমপরিমাণে মিশিয়ে নিন। কাটিংয়ের নিচের অংশ মাটির মধ্যে ১.৫-২ ইঞ্চি ঢুকিয়ে চারপাশের মাটি হালকা করে চেপে দিন। এরপর অল্প জল দিন। টবটি এমন জায়গায় রাখুন যেখানে উজ্জ্বল আলো আসে, কিন্তু সরাসরি কড়া রোদ পড়ে না। মাটিতে হালকা আর্দ্রতা বজায় রাখুন, তবে জল জমতে দেবেন না। চাইলে টবের উপর স্বচ্ছ প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারেন। সাধারণত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শিকড় গজাতে শুরু করে, যদিও আবহাওয়া ও কাটিংয়ের অবস্থার উপর সময় নির্ভর করে।
গন্ধরাজ গাছের সঠিক পরিচর্যা:
গন্ধরাজ গাছের জন্য এমন মাটি প্রয়োজন, যাতে জল সহজে বেরিয়ে যেতে পারে। বাগানের মাটির সঙ্গে পচা জৈব সার, কোকোপিট এবং বালি মিশিয়ে টবের মাটি তৈরি করতে পারেন। গাছকে প্রতিদিন ৪-৬ ঘণ্টা উজ্জ্বল আলো বা সকালের নরম রোদে রাখুন। মাটির উপরিভাগ শুকিয়ে এলে জল দিন। অতিরিক্ত জল দিলে শিকড় পচে যেতে পারে। গরমকালে নিয়মিত মাটির আর্দ্রতা পরীক্ষা করুন এবং বর্ষায় জল নিষ্কাশনের দিকে বিশেষ নজর দিন।
গন্ধরাজ গাছে প্রচুর ফুল পাওয়ার কৌশল:
গাছের বৃদ্ধির সময় মাসে একবার পরিমাণমতো পচা গোবর সার বা ভার্মিকম্পোস্ট দিতে পারেন। ফুলের মরশুমে অতিরিক্ত নাইট্রোজেন সার ব্যবহার করবেন না, কারণ এতে পাতা বেশি হলেও ফুল কম হতে পারে। গন্ধরাজ গাছ সামান্য অম্লীয় মাটিতে ভালো বাড়ে। তাই মাটির উপযুক্ত অম্লতা বজায় রাখুন এবং অকারণে চুন বা ছাই ব্যবহার করবেন না। শুকনো ও রোগাক্রান্ত ডাল ছেঁটে দিন। ফুল ফোটার সময় গাছের গোড়ায় জল দেওয়ার নিয়ম বজায় রাখুন এবং কুঁড়িতে পোকা লাগছে কি না খেয়াল করুন।
সবশেষে মনে রাখবেন, গন্ধরাজ গাছে ফুল পেতে ধৈর্য ও নিয়মিত পরিচর্যা জরুরি। পর্যাপ্ত আলো, সঠিক জল, পুষ্টিকর মাটি এবং পরিমিত সার দিতে পারলে আপনার গন্ধরাজ গাছও একসময় অসংখ্য সাদা ফুলে ভরে উঠবে এবং মিষ্টি সুবাসে মাতিয়ে তুলবে গোটা বাড়ি।