নিজস্ব সংবাদদাতা : লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর ভিড়, প্রশাসনিক তৎপরতা, চারদিকে নানান বিপনি, গঙ্গাসাগর মেলার এই চেনা চিত্রে এবার যোগ হল ভিন্ন এক ইভেন্ট। ভক্তির আবহে যুক্ত হল পরিবেশ সচেতনতা- ‘রান ফর গ্রিন’ ম্যারাথন। গঙ্গাসাগর মেলায় দাঁড়িয়ে প্রকৃতি রক্ষার শপথ নিলেন মেলায় আসা সকল স্তরের মানুষ। মেলার ব্যস্ততার মধ্যেই এই ম্যারাথন এনে দিল এক ভিন্নরকম বার্তা। লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর মধ্যে পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরার চেষ্টা করলেন আয়োজকরা।
এবার গঙ্গাসাগর মেলায় ভিনদেশি ভক্তদের আগমন বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। বিভিন্ন রাজ্যের তীর্থযাত্রীদের পাশাপাশি এবার গঙ্গাসাগরের মেলায় এসেছেন ইউরোপ, আমেরিকা, রাশিয়া, নেপাল, বাংলাদেশ-সহ অন্যান্য দেশের পুণ্যার্থীরা। তাঁদের উপস্থিতি মেলার আবহকে এবার ভিন্ন এক মাত্রা দিয়েছে।
এসব নিয়েই মেলার হালহদিশ জানাতে প্রশাসনের তরফে সোমবার প্রেস ব্রিফিং দেওয়া হল। তার আগে দেখে নেওয়া যাক, এবার গঙ্গাসাগপর মেলা ঘিরে সরকারের তরফে বাড়তি কি ব্যবস্থা রাখা হল। দিনকয়েক আগেই মুখ্যমত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গঙ্গাসাগরে এসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার তদারকি করে গেছেন। যুক্ত করেছেন তাঁর বহুদিনের পরিকল্পনা- ১৭০০ কোটি টাকা ব্য্যে মুড়িগঙ্গা নদীর উপর নতুন সেতুর শিলান্যাস। যা সাগরদ্বীপের সঙ্গে মূল ভূ-খণ্ডের স্থায়ী যোগাযোগ তৈরি করবে। যা বিশেষ করে ফি বছর গঙ্গাসাগরে আসা দেশ বিদেশের লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীদের দিকে তাকিয়ে এই সেতু নির্মাণকে গুরুত্ব দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।
এছাড়া প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও ভূমি ক্ষয়ের কারণে তটভূমি সংযোগকারী রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায়, আপদকালীন পরিস্থিতিতে ১/এ থেকে ৬ নম্বর তটভূমিতে যাতায়াতের জন্য একটি অস্থায়ী সংযোগকারী রাস্তা বানানো হয়েছে। যার ফলে কপিলমুণির আশ্রমে যাওয়া সহজ হবে। এইসঙ্গে সাগরে নতুন একটি বাসস্ট্যান্ড ও ট্যাক্সিস্ট্যান্ড করা হয়েছে। মেলা চলাকালীন অষ্টপ্রহর সতর্কতা মূলক পরামর্শ দসেওয়ার জন্য রয়েছে বেশ কিছু কিয়স্ক। মেলাকে সুন্দর করতে বেশ কিছু সুদৃশ্য তোরণও বানানো হয়েছে।

এবার মেলায় পারাপারের জন্য ১২টি জেটি ব্যবহার করা হচ্ছে। ধর্মতলা থেকে লট নং ৮ পর্যন্ত যাতায়াত করবে ৩৬০০টি বাস। কচুবেড়িয়া থেকে সাগরে যাবার জন্য থাকছে ৩০০টি বাস, ১৩টি বার্জ, ৪৫টি ভেসেল এবং ১২০টি লঞ্চের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।শুধু সুবিধাজনক ব্যবস্থাই নয়, পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেদিকে তাকিয়ে মোতায়েন করা হয়েছে ১৫,০০০-এরও বেশি পুলিশকর্মী। রয়েছে ৫৪টি ওয়াচ টাওয়ার। সঙ্গে আছে অ্যাডচান্স টিম, অ্যান্টি-ক্রাইম পেট্রোলিং টিম, ফুট টিম, মিসিং স্কোয়ার্ড, স্নিফার ডগ, রিভার পুলিশ ইত্যাদি। এখনও পর্যন্ত হারিয়ে যাওয়া ৮৪ জন পুণ্যার্থীর মধ্যে ৮০ জনকে তাঁদের পরিচিতজনের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অসুস্থ দুই পুণ্যার্থীকে চিকিৎসার জন্য এয়ার লিফটে কলকাতায় পাঠানো হয়েছে বলে গঙ্গাসগর মেলায় নিয়োজিত প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
