নিজস্ব প্রতিনিধি ,গ্যাংটক: জলবায়ু পরিবর্তন ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সিকিমের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে বড় সাফল্য। গ্যাংটকের হিমালয়ান জুলজিক্যাল পার্কে এবারের প্রজনন মরসুমে জন্ম নিয়েছে ৫টি রেড পান্ডা, ২টি হিমালয়ান ব্ল্যাক বিয়ার এবং ৪টি হিমালয়ান গোরাল। পার্কের ইতিহাসে এক বছরে এত সংখ্যক বিরল প্রজাতির জন্ম এই প্রথম।
পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জুন ও জুলাই মাসে তিন দফায় মোট ৬টি রেড পান্ডা শাবকের জন্ম হয়। প্রবল বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় একটি শাবকের মৃত্যু হলেও বাকি ৫টি সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছে। ‘সংরু ও পুণ্ডি’ দম্পতি অতিরিক্ত আর্দ্রতা থেকে বাঁচাতে বারবার নিজেদের শাবকদের শুকনো জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। চিকিৎসকদের নিরবচ্ছিন্ন নজরদারিতে তাদের বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হয়েছে।
পার্কের ডিরেক্টর সাঙ্গে গ্যাৎসো জানিয়েছেন, “জন্মের পর প্রথম দু’মাস রেড পান্ডা শাবকের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ। এটি অত্যন্ত সংকটজনক সময়। তাই শুরু থেকেই নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছিলাম। সব কিছু অনুকূলে আসার পরই ঘোষণা করলাম। বিলুপ্তপ্রায় এই প্রজাতির সংরক্ষণে এটি আমাদের বড় সাফল্য।” বর্তমানে পার্কে রেড পান্ডার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬-৯৭ সালে রেড পান্ডা সংরক্ষণ কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর নানা বাধার মুখে পড়ে পার্ক। ২০১২ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে ক্যানাইন ডিসটেম্পার ভাইরাসে ১২টি রেড পান্ডার মৃত্যু হয়। টানা সাত বছর পার্কে কোনও প্রজননক্ষম পুরুষ পান্ডা ছিল না। ২০২২ সালে নতুন প্রজনন জোড়া আনার পর পরিস্থিতি বদলায়।
রেড পান্ডা ছাড়াও আরও দুটি বিপন্ন প্রজাতির প্রজননেও সাফল্য এসেছে। জন্ম হয়েছে দুটি হিমালয়ান ব্ল্যাক বিয়ার ও চারটি গোরালের। গত বছরই ৬টি গোরালকে জঙ্গলে ছাড়া হয়েছিল। নতুন ৪টি শাবকের জন্ম সেই পুনর্বাসন প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করল।
বলে রাখা ভালো, প্রায় ২৩০ হেক্টর জুড়ে বিস্তৃত এই পার্কে এখন ১৩টি প্রজাতির মোট ৯২টি বন্যপ্রাণী রয়েছে। বন দফতরের এক আধিকারিক জানান, অরুণাচলের পর সিকিমেই সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৩০০টি বুনো রেড পান্ডা রয়েছে। এই সাফল্য পূর্ব হিমালয়ের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নতুন আশা দেখাচ্ছে।