ওঙ্কার ডেস্ক: গাজায় রক্তক্ষয়ী সংঘাত থামিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেওয়া উদ্যোগকে প্রশংসা করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার ঝড় উঠেছে। হামাস প্রথমে নীরব থাকলেও পরে পরিকল্পনার কয়েকটি দিক মেনে নেওয়ার কথা জানিয়েছে। এই পরিস্থিতিতেই মোদী প্রকাশ্যে ট্রাম্পের নেতৃত্বকে কুর্নিশ জানালেন।
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, গাজায় শান্তি ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা ইতিবাচক দিক নির্দেশ করছে। বন্দি বিনিময়ের মতো পদক্ষেপ মানবিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করে তুলবে। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, এই প্রক্রিয়ায় ট্রাম্পের নেতৃত্ব প্রশংসনীয় এবং তা পরিস্থিতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।
মোদী বলেন, গাজায় স্থায়ী ও ন্যায়সঙ্গত শান্তির পথে এগোতে গেলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস প্রয়োজন। ভারত সবসময়ই শান্তির পক্ষে থেকেছে এবং এ ক্ষেত্রে যেকোনো উদ্যোগে ভারতের দৃঢ় সমর্থন অব্যাহত থাকবে। দিল্লি প্রশাসন মার্কিন পরিকল্পনাকে স্বাগত জানাচ্ছে এবং অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রতি আস্থা রাখছে।
বিগত এপ্রিল মাসে কাশ্মীরের পেহেলগামে পর্যটকদের উপর পাকিস্তানী মদতপুষ্ট জঙ্গী গোষ্টীর হামলার জেরে চার দিন ব্যাপী যুদ্ধে জরিয়ে পড়ে দুই দেশ। পরে পাকিস্তানী এয়ার বেস ব্যাপক ক্ষতির জেরে ভারতীয় অফিসিয়ালের দারস্থ হয় ইসলামাবাদ, দুই দেশের বৈঠকের মাধ্যমেই যুদ্ধ থামে। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন তিনি দুই দেশের মধ্যে শান্তি চুক্তি করিয়েছেন। নয়া দিল্লি ট্রাম্পের এই দাবিকে একেবারেই নাকচ করে এসেছে বারবার। পাকিস্তানও প্রথমে ওয়াশংটনের মধ্যস্থা স্বীকার না করলেও পরে দাবি করে ট্রাম্পের জন্য যুদ্ধ থেমেছে দুই দেশের মধ্যে। এমনকি ট্রাম্পের জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কারের মনোনয়নের প্রসঙ্গ তোলে ইসলামাবাদ।
এদিকে ট্রাম্প শিবিরও একাধিক যুদ্ধ থামানোর কৃতিত্ব প্রেসিডেন্টকেই দিয়ে সরাসরি নোবেল শান্তি পুরস্কারের যোগ্য দাবিদার বলে তুলে ধরার চেষ্টা করে চলেছে। এবার সেই লিস্টে আবারও এক নাম জুড়ে গেল। প্রসঙ্গত দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট পদে শপথ নেওয়ার সময়
ট্রাম্প বলেছিল ইজরাইল গাজার যুদ্ধ থামানোই তাঁর এখন মূল লক্ষ্য।
