ওঙ্কার ডেস্ক: ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মিশরের প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তাহ এল-সিসির যৌথ আমন্ত্রণে গাজা শান্তি সম্মেলনে যোগদানের আহ্বান পেয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মিশরের শার্ম এল শেখে অনুষ্ঠিত হতে চলা এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের লক্ষ্য মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে গাজা উপত্যকায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। ট্রাম্প ও সিসি যৌথভাবে এই বৈঠকের নেতৃত্ব দেবেন বলে জানা গিয়েছে, যেখানে প্রায় কুড়িটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান অংশ নেবেন বলে সূত্রের দাবি।
গাজা উপত্যকায় ইজরায়েল ও হামাসের সংঘাত ক্রমশ তীব্র হয়ে উঠেছে। অসংখ্য প্রাণহানি, অবকাঠামোগত ক্ষতি এবং মানবিক বিপর্যয়ের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক মহল এখন শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য একত্রিত হওয়ার চেষ্টা করছে। সেই প্রেক্ষিতেই এই শান্তি সম্মেলনের আয়োজন। ট্রাম্প ও সিসি উভয়েই জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বৈশ্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন এবং ভারতের মতো বড় গণতান্ত্রিক দেশের উপস্থিতি এই উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করবে।
সূত্রের খবর, ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ব্যক্তিগতভাবে মোদিকে আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছে। ভারত ও আমেরিকার মধ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা এই আমন্ত্রণের পেছনে বড় কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে মিশরও ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছে। গাজা সমস্যায় ভারত বরাবরই শান্তি ও সংলাপের পক্ষপাতী, ফলে এই সম্মেলনে ভারতের ভূমিকা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় এখনও পর্যন্ত এই আমন্ত্রণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। সূত্র বলছে, আমন্ত্রণটি গ্রহণের বিষয়ে এখন পর্যালোচনা চলছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোদির উপস্থিতি যদি এই সম্মেলনে নিশ্চিত হয়, তা হলে গাজা ইস্যুতে ভারতের ভূমিকা আরও আন্তর্জাতিক গুরুত্ব পাবে।
এর আগে গাজার যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত উদ্যোগে ট্রাম্পের সাফল্যের জন্য মোদি তাঁকে ফোনে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। দুই নেতার মধ্যে সেই সময় বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়েছিল। এবার গাজা শান্তি আলোচনায় আমন্ত্রণ ভারতের কূটনৈতিক অবস্থানকে নতুন মাত্রা দিতে পারে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।
