ওঙ্কার ডেস্ক: নেপালের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি দীর্ঘ অন্তর্ধানের পর ফের প্রকাশ্যে হাজির হলেন। শনিবার ভক্তপুরে সিপিএন-ইউএমএল-এর যুব সংগঠনের আয়োজিত এক জনসভায় তাঁকে দেখা যায়। ‘জেন-জি’ গণঅভ্যুত্থানের পর এটাই তাঁর প্রথম জনসমক্ষে আসা। উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে ওলি স্পষ্ট বার্তা দেন, তরুণ প্রজন্মের সঙ্গেই ভবিষ্যতের রাজনীতি গড়ে তুলতে চান তিনি।
উল্লেখ্য, গত ৯ সেপ্টেম্বরের ‘জেন-জি গণ-অভ্যুত্থান’-এর জেরে ক্ষমতা থেকে সরে যেতে হয় কেপি শর্মা ওলিকে। সেই সময় থেকেই দেশজুড়ে গুজব ছড়িয়েছিল যে ওলি নাকি সেনাবাহিনীর সাহায্যে দুবাইয়ে পালিয়েছেন। এমনকি, শোনা যাচ্ছিল তিনি একটি সামরিক বিমানে করে দেশ ত্যাগ করেছিলেন। তবে নেপাল সেনা প্রকাশ্যে জানিয়েছিল, তাঁদের পক্ষ থেকে কোনও রকম সহযোগিতা দেওয়া হয়নি। সেই থেকেই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর খোঁজ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল রাজনৈতিক মহলে।
অবশেষে শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ভক্তপুরে সিপিএন-ইউএমএল-এর যুব সংগঠনের ডাকে আয়োজিত এক জনসভায় উপস্থিত হন ওলি। এটাই তাঁর প্রথম প্রকাশ্য জনসমাগমে যোগ দেওয়া, গণঅভ্যুত্থানের পর। মঞ্চে উঠে ওলি তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে নতুন করে চাঙ্গা করার চেষ্টা করেন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন, নেপালের আগামী দিনের রাজনীতির মূলে থাকবে জেন-জি প্রজন্মের বিশ্বাস। তাই তাঁদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংযোগ স্থাপন করাই তাঁর মূল উদ্দেশ্য।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওলির এই প্রকাশ্য উপস্থিতি নিছক একটি রাজনৈতিক বার্তাই নয়, বরং আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতিরও ইঙ্গিত। মার্চের পর যে কোনও সময় নেপালে নির্বাচন হতে পারে। সেই প্রেক্ষিতে তরুণদের সমর্থন ছাড়া রাজনৈতিক মঞ্চে প্রাসঙ্গিক থাকা কঠিন বলেই মনে করছেন ওলি।গণঅভ্যুত্থানের অভিঘাতে টালমাটাল নেপালের রাজনীতিতে ওলির এই প্রত্যাবর্তন কেমন প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েই এখন জল্পনা শুরু হয়েছে।
