ওঙ্কার বাংলা, গাজিয়াবাদ : বুধবার নয়ডা স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের জালে ধরা পড়লো ভুয়ো দূতাবাসের চাঞ্চল্যকর নেটওয়ার্ক। উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদের কবি নগর এলাকায় একটি ভাড়া করা বাংলো থেকে এই দূতাবাস চালানো হচ্ছিল। বাংলোর বাইরে জাল কূটনৈতিক নম্বর প্লেট লাগানো বেশ কয়েকটি বিলাশবহুল গাড়ি পার্ক করা হয়েছিল, যা অবৈধ কাজকর্মের বৈধতার জন্য ব্যবহার করা হত। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে এই চক্রের মূল হোতা হর্ষ বর্ধন জৈনকে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, বাংলোটিকে কিছু কাল্পনিক বা স্বঘোষিত ক্ষুদ্র জাতির জন্য একটি তথাকথিত দূতাবাস হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। তিনি ওয়েস্ট আর্কটিকা, সাবোরগা, পুলভিয়া এবং লোডোনিয়া সহ অন্যান্য কাল্পনিক সত্তার প্রতিনিধিত্ব করার মিথ্যা দাবিও করেছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত হর্ষ বর্ধন জৈন এই তথাকথিত দেশগুলির রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিজেকে জাহির করতেন। এর মাধ্যমে মানুষকে প্রতারিত করার জন্য বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করতেন। তাঁর এই প্রতারণার কাজকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার জন্য নানান জাল কূটনৈতিক নম্বর প্লেট এবং অন্যান্য জাল নথিও ব্যবহার করতেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ডঃ এ.পি.জে. আব্দুল কালাম এবং কিছু আন্তর্জাতিক নেতার মতো বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্বদের বিলাসবহুল গাড়ি এবং নকল ছবি দেখিয়ে মানুষদের প্রভাবিত করতেন। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ মনে করছে, আন্তর্জাতিক অস্ত্র ব্যবসায়ী আদনান খাশোগি এবং বিতর্কিত স্বঘোষিত ধর্মগুরু চন্দ্রস্বামীর সঙ্গে ধৃত ব্যক্তির সম্পর্ক থাকতে পারে।
কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে, এসটিএফ কর্মীরা ২২ জুলাই অভিযান চালিয়ে জৈনকে আটক করে। তদন্তে জানা গেছে, জৈনের জালিয়াতি কেবল তার জাল কূটনৈতিক পরিচয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তার চক্রটি বিদেশে ব্যবসা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বহু ব্যক্তি ও নানান সংস্থাকে প্রতারিত করে চলতেন।
পুলিশ মনে করছে, ওই ব্যক্তি তাঁর অবৈধ লেনদেন বাড়াতে শেল কোম্পানিগুলির মাধ্যমে একটি হাওয়ালা নেটওয়ার্ক চালাতে পারেন। এর আগে ২০১১ সালে পুলিশ তাঁর কাছ থেকে একটি স্যাটেলাইট ফোন উদ্ধার করেছিল বলে জানা গেছে। অভিযান চালিয়ে পুলিশ প্রচুর জাল কূটনৈতিক সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে জাল কূটনৈতিক প্লেট সহ চারটি বিলাসবহুল গাড়ি, জাল মাইক্রোনেশনের সঙ্গে যুক্ত ১২টি জাল কূটনৈতিক পাসপোর্ট, দুটি জাল প্যান কার্ড, বিদেশ মন্ত্রণালয়ের সিল সহ জাল নথি এবং বিভিন্ন দেশ এবং কর্পোরেট সত্তা থেকে আসা ৩৪টি জাল সিল। এছাড়াও, দুটি জাল প্রেস কার্ড, নগদ ৪৪.৭ লক্ষ টাকা, একাধিক দেশের বৈদেশিক মুদ্রা এবং আরও ১৮টি জাল কূটনৈতিক নম্বর প্লেট খুঁজে পেয়েছেন। এই ঘটনায় কবি নগর থানায় একটি নতুন এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। সম্ভাব্য আইনি প্রক্রিয়াও চালাচ্ছে পুলিশ। এই চক্রে আরও ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তদন্ত চলছে।
