ওঙ্কার ডেস্ক: ফের পথকুকুরকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর ঘটনা পথকুকুরকে খাওয়াতে গিয়ে শারীরিক হেনস্থার শিকার হলেন এক তরুণী। ঘটনাটি ঘটেছে গাজিয়াবাদের বিজয়নগরের ব্রহ্মপুত্র এনক্লেভ হাউজিং সোসাইটিতে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার গভীর রাতে ওই সোসাইটির নির্দিষ্ট জায়গায় পথকুকুরদের খাবার দিচ্ছিলেন যশিকা শুক্লা নামে এক তরুণী। অভিযোগ, সেসময় হঠাৎ সোসাইটির এক বাসিন্দা কমল খান্না এসে তাঁকে আক্রমণ করেন। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, মাত্র চল্লিশ সেকেন্ডের মধ্যে খান্না আটবার যশিকাকে থাপ্পড় মারেন। এ সময় যশিকা কেবল বলতে থাকেন, “দিদি, ভিডিও তোলো, উনি আমাকে মারছেন।” অপরদিকে অভিযুক্তকে পাল্টা বলতে শোনা যায়, “হ্যাঁ, রেকর্ড করো।”
অভিযুক্ত দাবি করেছেন, যশিকা নাকি প্রথমে তাঁকে আঘাত করেছিলেন। কিন্তু ভাইরাল হওয়া ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, খান্না বারবার মহিলাকে আঘাত করছেন এবং আশেপাশে দাঁড়ানো লোকেরা আতঙ্কে চিৎকার করছেন। পুরো ঘটনাই ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ভাইরাল ভিডিওর ভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অভিযুক্ত কমল খান্নাকে হেফাজতে নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে।
ঘটনাটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ কয়েকদিন আগেই সুপ্রিম কোর্ট পথকুকুরদের নিয়ে তার নির্দেশ সংশোধন করেছে। প্রথম নির্দেশে আদালত বলেছিল, আট সপ্তাহের মধ্যে দিল্লি ও আশপাশের সব পথকুকুরকে ধরে শেল্টারে রাখা হবে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তে প্রশ্ন উঠলে নতুন নির্দেশে জানানো হয়, কুকুরদের টিকাকরণ ও নির্বীজকরণের পর আবার মুক্ত করে দেওয়া হবে, যদি না তারা রেবিস আক্রান্ত বা অত্যধিক আক্রমণাত্মক হয়। একইসঙ্গে আদালত নির্দেশ দেয়, নির্দিষ্ট স্থানে প্রাণীদের খাওয়ানোর ব্যবস্থা রাখতে হবে।
আইনগত নির্দেশনার মাঝেই গাজিয়াবাদের এই ঘটনা পথকুকুর খাওয়ানো ও প্রাণীপ্রেমীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক ছড়িয়েছে।
