নিজস্ব সংবাদদাতা : সোনার বাজারে ফের বেনজির নজির। বুধবার সকালেই দামে রেকর্ড ছুঁয়েছে হলুদ ধাতুর। ১০ গ্রাম সোনার দাম ১ লক্ষ ২২ হাজার টাকায় পৌঁচেছে। কিন্তু কেন এত দাম বাড়ছে সোনার ? ক্রমশ মধ্য বৃত্তের ধরা ছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে সোনার দাম ?
বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যে,
১. আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা,
২. দুর্বল মার্কিন ডলার ,
৩. সুদের হার কমার সম্ভাবনা,
এই তিন কারণে সোনার দাম আকাশ ছুঁয়েছে। বুধবার সকালে সোনার দাম বেড়ে দাঁড়ায় গ্রাম পিছু ১,২২,১৬৫ টাকা। অর্থাৎ বেড়েছে প্রায় ০.৮৬%। একই সঙ্গে রূপোর দামও বাড়ে ১.১৪%, প্রতি কিলোগ্রামে দাম হয়েছে ১,৪৭,৪৫০ টাকা। এই প্রথমবার সোনা দাম রেকর্ড গড়ল। যা চলতি বছরের ধারাবাহিক উত্থানেরই প্রতিফলন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দাম বৃদ্ধির পিছনে মার্কিন প্রভাব রয়েছে। দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে মার্কিন বাজারে বনধ জনিত জট। ফলে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশে বেগ পেতে হয়েছে। এর ফলে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। পাশাপাশি ডলারের মান কমে যাওয়ায় সোনার চাহিদা বাড়ছে, কারণ সোনা বিকল্প নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যম। তাছাড়া ফ্রান্স ও জাপানের রাজনৈতিক পরিবর্তনও বাজারে আতঙ্ক বাড়িয়েছে। এর উপর আবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক গত কয়েক মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে সোনা কিনছে।
এই রেকর্ড দামে সোনা কেনা উচিত, নাকি বিক্রি করা উচিত ? কৌতুহল অনেকের। তবে বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মূর্হূর্তে স্বল্প মেয়াদে সোনায় বিনিয়োগ করলে লাভের সুযোগ রয়েছে। তাই যারা সোনায় বিনিয়োগ করার কথা ভাবছেন আংশিক লাভ তোলা শুরু করতে পারেন। তবে দীর্ঘ মেয়াদে সোনার দাম আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তাই দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগে ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। তবে নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য হঠাৎ করে বড় পরিমাণে কেনার পরিবর্তে, ধাপে ধাপে ছোট পরিমাণে কিনে পোর্টফোলিও তৈরি করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সোনার দাম বেশী থাকায় গোল্ড লোনের বাজারও এখন চাঙ্গা। তবে রেটিং সংস্থা আইসিআরএ জানিয়েছে, “ভারতের সংগঠিত সোনা ঋণ শিল্প ও সর্বকালের রেকর্ড ছুঁতে পারে। ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে ১৫ লক্ষ কোটি টাকার সীমা ছাড়িয়ে যাবার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে এক বছর আগেই লক্ষ্য পূর্ণ হবে। ২০২৭ সালে তা আরও বেড়ে ১৮ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছতে পারে।” বর্ধিত সোনার মূল্য ঋণযোগ্য সম্পদের মূল্য বাড়াচ্ছে, ফলে ব্যাঙ্ক ও এনবিএফসির কাছে এটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। যদিও সোনা এখনো সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত, তবুও বিশ্লেষকদের পরামর্শ অতি উচ্ছ্বাসে নয়, বিনিয়োগ করুন কৌশলগতভাবে।
