ওঙ্কার ডেস্ক : গত শুক্রবার বিহারের বিখ্যাত ব্যাবসায়ী গোপাল খেমেকাকে তাঁর বাড়ির সামনেই গুলি করে হত্যা করেছিল দুই দুষ্কৃতি। ঘটনার মূল অভিযুক্ত বিকাশ মঙ্গলবার রাতে পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত হয়েছে। পাটনার মালসালামি এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিকাশকে খতম করে পুলিশ বাহিনী। পুলিশের দাবি, গোপাল খেমকা খুনের দিন মূল শ্যুটার উমেশের সঙ্গে ছিলেন বিকাশ। এর আগে এই হত্যা মামলার মূল অভিযুক্ত উমেশকে গ্রেফতার করা হয়েছে। খেমকা হত্যা মামলায় এখনও পর্যন্ত দু’জনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মূল শ্যুটার উমেশের সঙ্গে সঙ্গে আরও একজনকে গ্রেফতার করেছে পাটনা পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এই দ্বিতীয় ব্যক্তি হত্যাকাণ্ডের ‘সুপারি’ দিয়েছিল। গোটা ঘটনায় বিহারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধী দলগুলোর তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিরোধী আরজেডি ও কংগ্রেস একযোগে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের সরকারের সমালোচনায় মুখর হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রাতে পাটনার প্রখ্যাত ব্যবসায়ী গোপাল খেমকা নিজের বাড়ির গেটের সামনে নিজের গাড়িতে বসেছিলেন। সেই সময়েই এক দুষ্কৃতী গাড়ির দিকে এগিয়ে এসে খুব কাছ থেকে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় খেমকার। পাটনায় মগধ হাসপাতালের কর্ণধার পাশাপাশি পেট্রল পাম্প-সহ একাধিক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এই খ্যাতনামা ব্যবসায়ী। জানা গিয়েছে, খেমকার পরিবার আগেও এমন মর্মান্তিক ঘটনার শিকার হয়েছে। প্রসঙ্গত প্রায় সাত বছর আগে হাজিপুরে জমি বিবাদের জেরে খুন হয়েছিলেন তাঁর ছেলে।
বিহারের এই স্বনামধন্য ব্যবসায়ী গোপাল খেমকা হত্যাকাণ্ড নিয়ে চাঞ্চল্য ক্রমশই বাড়ছে রাজ্যের রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক মহলে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার ইতিমধ্যেই শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন। তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, কোনও গাফিলতি সহ্য করা হবে না। আইনের শাসন বিহার সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এই বার্তাই দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, তদন্তে কোনও পুলিশ আধিকারিকের দায়িত্বে গাফিলতি প্রমাণিত হলে তাঁদের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
