ওষুধের দোকানে মোদির ছবি ! কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোল বোর্ডের নির্দেশিকায় বিতর্ক তুঙ্গে
ওঙ্কার বাংলা : ওষুধের উপর জিএসটি ছিল ১২ শতাংশ। সেখান থেকে কমে এখন হয়েছে ৫ শতাংশ। পোস্টার, ব্যানার দোকানে লাগাতে হবে যার মাধ্যমে ক্রেতারা খুব সহজেই জানতে পারবেন এই খবর। এই সার্কুলার জারি করেছে কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোল বোর্ড। এমনকি কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোল বোর্ড নমুনা দিয়েছে পোস্টার, ব্যানারের ধরন কেমন হবে। এবং সেই পোস্টারে মোদির ছবি রাখতে হবে।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, পোস্টার, ব্যানার প্রতিটি পাইকারি এবং খুচরো ওষুধের দোকানে টাঙিয়ে রাখতে হবে। সেই পোস্টার, ব্যানারে লেখা থাকবে, অনেক ওষুধের জিএসটি ১২ শতাংশ থেকে কমে ৫ শতাংশ হয়েছে। কিন্তু এখনো ক্যানসারের ওষুধের জিএসটি কমেনি। এছাড়া ওষুধ এর পাশাপাশি দাম কমানো হয়েছে শুকনো খাবার, জিমের যন্ত্রপাতি, মেডিক্যাল ডিভাইস, চশমা, কন্ট্যাক্ট লেন্স, জুস, ফ্রুট পাল্পের। লেখার পাশেই রাখতে হবে মোদীর পেল্লায় ছবি। নরেন্দ্র মোদী ডা. করবী বড়ালের কথায়, “ভোটে জিতে প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসেছেন। যাঁরা মোদীকে ভোট দিয়ে জিতিছেন এবং যাঁরা মোদীকে ভোট দেননি মোদী সকলের জন্য কাজ করতে দায়বদ্ধ। সেখানে জিএসটি কমিয়ে এই ধরনের পোস্টার ছাপিয়ে প্রচার অত্যন্ত দৃষ্টিকটু।”
ঘটনায় ক্ষুব্ধ বাংলার শাসকপন্থী চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের সংগঠন প্রোগ্রেসিভ হেলথ অ্যাসোসিয়েশন। প্রোগ্রেসিভ হেলথ অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদকের কথায়, মোদী সরকার ওষুধে জিএসটি চাপিয়েছিল। এই বিষয়ে প্রতিবাদ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় সরকার চাপে পড়ে জিএসটি অল্প কমিয়েছে। এই কাজ করা তাদের কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। তার জন্য পোস্টার টাঙিয়ে রাজনৈতিক প্রচার করা লজ্জাজনক।
পাইকারি এবং খুচরো মিলিয়ে বাংলায় ১ লক্ষ দশ হাজার ওষুধ বিক্রয়ক্রেন্দ্র রয়েছে। নির্দেশ আনুযায়ী, প্রতিটি আউটলেটে টানা ১০০ দিন ধরে মোদির ছবি সহ কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোল বোর্ডের পোস্টার টাঙিয়ে রাখতে হবে। বেঙ্গল মেডিক্যাল সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভস ইউনিয়নও প্রতিবাদে সবর হয়েছে। কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোল বোর্ডের সার্কুলারে কার্যত সরকারি টাকায় দলীয় প্রছারের নিদান দেওয়া হয়েছে বলেই মত তাঁদের। পার্থ রক্ষিতের দাবি, জীবনদায়ী ওষুধের দাম বাড়ানো গর্হিত অপরাধ।
