ওঙ্কার ডেস্ক: আমেরিকায় এইচ-১বি ভিসার নিয়ম ফের বদলাতে চলেছে এমনই ইঙ্গিত দিলেন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ এক শীর্ষ আধিকারিক। এই ভিসার সুযোগ নিয়ে বহু ভারতীয় তরুণ-তরুণী তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা বা অন্যান্য বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। কিন্তু নতুন প্রস্তাবিত পরিবর্তন কার্যকর হলে ভিসা পাওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে যাঁদের বেতন তুলনামূলকভাবে কম।
আমেরিকার বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লাটনিক জানিয়েছেন, বর্তমান এইচ-১বি ব্যবস্থায় বহু ‘ফাঁকফোকর’ রয়েছে। সেটি আধুনিক চাহিদা অনুযায়ী একেবারেই উপযুক্ত নয়। তাই আগামী দিনে ভিসা বরাদ্দের নিয়মে বড়সড় রদবদল আনা হবে। এই পরিবর্তন কার্যকর করার জন্য শ্রম দফতর শীঘ্রই “প্রজেক্ট ফায়ারওয়াল” নামে একটি বিশেষ পরিকল্পনা শুরু করবে। এর মূল উদ্দেশ্য, প্রথমে আমেরিকান নাগরিকদের চাকরির সুযোগ নিশ্চিত করা এবং বিদেশি কর্মীদের ভিসা প্রক্রিয়ায় অপব্যবহার রোধ করা।
প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, আগামী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে শুধুমাত্র উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন ও উচ্চ বেতনের বিদেশি কর্মীরা তুলনামূলক সহজে ভিসা পাবেন। অন্যদিকে, নিম্ন স্তরের বেতনে কাজ করতে ইচ্ছুক আবেদনকারীদের জন্য ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। ভিসা লটারির প্রচলিত পদ্ধতি বাতিল করে চার স্তরে বিভক্ত বেতনের ভিত্তিতে নতুন প্রক্রিয়া চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। সর্বোচ্চ বেতনের স্তরে থাকা আবেদনকারীরা একাধিক সুযোগ পাবেন, কিন্তু সর্বনিম্ন স্তরে থাকা আবেদনকারীরা একবারই সুযোগ পাবেন।
সবচেয়ে আলোচিত প্রস্তাব হল নতুন ভিসা আবেদনের জন্য নিয়োগকর্তাকে ১ লক্ষ মার্কিন ডলার সরকারের কাছে জমা দিতে হবে। এর ফলে ছোট-মাঝারি সংস্থা বা নিম্ন বেতনের কর্মী নিয়োগ করতে ইচ্ছুক প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য এইচ-১বি ভিসা নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে। তবে ইতিমধ্যেই যাঁরা এই ভিসায় আমেরিকায় রয়েছেন, তাঁদের ফের দেশে এলে নতুন করে ওই ফি দিতে হবে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তন কার্যকর হলে ভারতীয় আইটি কর্মী বা সদ্য পাশ করা পড়ুয়াদের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির রাস্তা অনেকটাই সংকীর্ণ হয়ে পড়বে। অন্যদিকে, উচ্চ বেতনভুক্ত অভিজ্ঞ পেশাদারদের চাহিদা বাড়বে। ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি আরও কঠোর হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। এই প্রস্তাব এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে ট্রাম্প শিবির ফের ক্ষমতায় এলে নীতিগতভাবে তা কার্যকর হতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
