ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে ফের তীব্র বিতর্কের জন্ম দিল বিশিষ্ট লেখিকা ও মানবাধিকার কর্মী তসলিমা নাসরিনের মন্তব্যে। ইনক্লাব মঞ্চের সুপ্রিমো শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে তিনি সরাসরি অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া একাধিক পোস্টে তসলিমা দাবি করেছেন, এই হত্যাকাণ্ড কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এর পিছনে গভীর রাজনৈতিক চক্রান্ত লুকিয়ে থাকতে পারে। এই ঘটনয়ায় সরাসরি তিনি দেশের বর্তমান সরকারকে দায়ী করেছেন। পাশাপাশি ঘটনায় পুশিলের কর্ম তৎপরতা নিয়ে সমালোচনা করেছেন সমাজমাধ্যমে।
নিজের সমাজমাধ্যমে তাসলিমা নাসরিন লিখেছেন, “কয়েক ঘণ্টা ধরে জিহাদিরা ডেইলি স্টার, প্রথম আলো, ছায়ানট, আর উদীচীর কার্যালয় লুঠ করেছে, ভেঙেছে, পুড়িয়েছে। পুলিশ আসেনি। মনে হচ্ছে গোটা ব্যাপারটাই করিয়েছে সরকার। পুলিশ সরকারের গ্রিন সিগ্নেল পায়নি বলে কর্মস্থল ত্যাগ করেনি”। তাসলিমা শুধুমাত্র দেশের অন্তবর্তী সরকারকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়নি, পাশাপাশি বাংলাদেশের কিছু সংবাদমাধ্যম এবং সমাজ মাধ্যমে ভারতের বিরুদ্ধে যেসমস্ত মিথ্যা আরোপ আনা হচ্ছে বিগত কয়েকদিন ধরে তা নিয়েও মুখ খুলেছেন তিনি। এমনকি ওসমান হাদির মৃত্যুতে ভারতের হস্তক্ষেপ সম্পুর্ন নাসাৎ করেছে বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনী। মূল অভিযুক্তরা যে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্তে দিয়ে ভারতের মণিপুরে পালিয়ে গেছে, এই আরোপেরও কোনো প্রমাণ মেলেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
হাদির মৃত্যুর প্রসঙ্গ নিয়ে তসলিমার বক্তব্যে উঠে এসেছে, হাদির খুনের পর যেভাবে দেশজুড়ে অশান্তি ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে সরকারের নির্লিপ্ততা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন জায়গায় হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং সংবাদমাধ্যমের দফতরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা ছিল প্রশ্নাতীতভাবে নীরব। এই নীরবতাই সন্দেহ বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন তিনি। তাঁর মতে, রাষ্ট্রযন্ত্রের এই নিষ্ক্রিয়তা ইচ্ছাকৃত কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। হাদি হত্যাকান্ডের পাশাপাশি দিপু দাস খুনের ঘটনায়ও পুলিশের কাজ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তাসলিমা।
তাসলিমা নাসরিনের অভিযোগ গুলির মধ্যে সব থেকে নজরকারা এবং গুরতর অভিযোগ ছিল এক মোটা অঙ্কের টাকার পরিমাণ। হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে উঠে আসা আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য নিয়েও তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন তসলিমা নাসরিন। অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে বিপুল অঙ্কের অর্থের যোগসূত্র সামনে আসায় তিনি জানতে চান, এই অর্থের উৎস কোথায় এবং কারা এর নেপথ্যে রয়েছে। তাঁর মন্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে, এমন বড় অঙ্কের লেনদেন সাধারণ অপরাধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এর পিছনে প্রভাবশালী মহলের মদত থাকতে পারে।
তসলিমার দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত ও আতঙ্কিত। হাদি হত্যার পর দেশজুড়ে যে বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঢেউ উঠেছে, তা সামাল দিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলেই তাঁর মত। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশকে অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, যার দায় এড়াতে পারে না প্রশাসন। তাঁর দাবি, নির্বাচনের আগে দেশের অভ্যন্তরে এমন অশান্তি করানোই ছিল মূল উদ্দেশ্য।
অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকার বারবার আশ্বাস দিয়েছে যে হাদি হত্যার নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে এবং দোষীদের কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না। তবে তসলিমা নাসরিনের এই তীব্র সমালোচনার পর রাজনৈতিক চাপ যে আরও বাড়ল, তা স্পষ্ট। হাদি হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে প্রশ্ন, সন্দেহ ও অভিযোগের আবর্তে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ আরও জটিল হয়ে উঠছে।
