সুন্দর, ঝলমলে ও মসৃণ চুল কে না চান! কিন্তু অনেকের ক্ষেত্রেই চুল আঁচড়াতে গেলেই দেখা যায় এক অস্বস্তিকর সমস্যা—চুলে অতিরিক্ত জট পড়া। বিশেষ করে শ্যাম্পু করার পর, ঘুম থেকে ওঠার সময় কিংবা সারাদিন বাইরে থাকার পর চুলে এমনভাবে জট বেঁধে যায় যে তা ছাড়াতে গিয়ে চুল ছিঁড়ে যাওয়া বা গোড়া থেকে উঠে আসার ভয় থাকে। অনেকেই মনে করেন, চুল ঠিকমতো আঁচড়ানো হয় না বলেই এই সমস্যা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে চুলে অতিরিক্ত জট পড়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে।
চুলে অতিরিক্ত জট পড়ার প্রধান কারণ কী?
চুলে জট পড়ার অন্যতম কারণ হলো চুলের আর্দ্রতা কমে যাওয়া। চুল অতিরিক্ত শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে গেলে চুলের বাইরের স্তর বা কিউটিকল খসখসে হয়ে যায়। ফলে একটি চুলের সঙ্গে অন্য চুল আটকে গিয়ে সহজেই জট তৈরি হয়। বিশেষ করে যাঁদের চুল কোঁকড়ানো, ঢেউ খেলানো কিংবা লম্বা, তাঁদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।
এছাড়াও চুলে অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহার, ঘন ঘন হেয়ার কালার করা, হিট স্টাইলিংয়ের জন্য স্ট্রেইটনার বা কার্লার ব্যবহার এবং রোদে দীর্ঘক্ষণ থাকার কারণেও চুলের স্বাভাবিক আর্দ্রতা নষ্ট হতে পারে। ফলে চুল দুর্বল, রুক্ষ ও জটপ্রবণ হয়ে ওঠে।
আর কোন কোন কারণে চুলে জট বাড়তে পারে?
১. চুলের ডগা ফেটে যাওয়া: চুলের আগা ফেটে গেলে একটির সঙ্গে অন্যটি জড়িয়ে গিয়ে জট তৈরি করতে পারে।
২. পর্যাপ্ত কন্ডিশনার ব্যবহার না করা: শ্যাম্পু করার পর চুলে কন্ডিশনার ব্যবহার না করলে চুলের মসৃণতা কমে যায় এবং জট সহজে তৈরি হয়।
৩. ভেজা চুল নিয়ে ঘুমানো: ভেজা চুল তুলনামূলকভাবে বেশি দুর্বল থাকে। এই অবস্থায় ঘুমালে বালিশের সঙ্গে ঘর্ষণের ফলে চুলে জট ও ভাঙন বাড়তে পারে।
৪. বালিশের ঘর্ষণ: সাধারণ সুতির বালিশের কভারের সঙ্গে চুলের বারবার ঘর্ষণ হলে চুল জট পাকাতে পারে।
৫. চুলের যত্নে অনিয়ম: দীর্ঘদিন চুলের সঠিক পরিচর্যা না করা, ধুলোবালি জমতে দেওয়া এবং চুলের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত পণ্য ব্যবহার না করাও জটের সমস্যা বাড়াতে পারে।
চুলের অতিরিক্ত জট থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ উপায়
চুলের জট কমাতে প্রথমেই চুলের আর্দ্রতা বজায় রাখার দিকে নজর দিতে হবে। নিজের চুলের ধরন অনুযায়ী মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করুন এবং প্রতিবার শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার লাগান। চুলের মাঝখান থেকে ডগা পর্যন্ত কন্ডিশনার ব্যবহার করলে চুল অনেক বেশি মসৃণ থাকে।
চুল আঁচড়ানোর সময় তাড়াহুড়ো করবেন না। চুলের ডগা থেকে ধীরে ধীরে জট ছাড়িয়ে তারপর ওপরের দিকে আঁচড়ান। জট ছাড়ানোর জন্য ওয়াইড-টুথ কম্ব ব্যবহার করতে পারেন। খুব জোরে চুল টেনে আঁচড়ানো থেকে বিরত থাকুন।
চুল অতিরিক্ত শুষ্ক হলে লিভ-ইন কন্ডিশনার বা ডিট্যাংলিং স্প্রে ব্যবহার করতে পারেন। পাশাপাশি নিয়মিত চুলের ডগা পরীক্ষা করুন এবং ফাটা আগা থাকলে ছাঁটিয়ে নিন।
রাতে ঘুমানোর আগে চুল আলতো করে বেঁধে রাখা, সাটিন বা সিল্কের বালিশের কভার ব্যবহার করা এবং ভেজা চুল নিয়ে না ঘুমানোর অভ্যাসও জট কমাতে সাহায্য করতে পারে।
কিছু অভ্যাস বদলালেই মিলতে পারে উপকার
চুলে অতিরিক্ত জট পড়া মানেই যে চুল এলোমেলো রয়েছে, তা কিন্তু নয়। অনেক সময় চুলের শুষ্কতা, ক্ষতিগ্রস্ত কিউটিকল, ফাটা আগা কিংবা ভুল হেয়ার কেয়ার রুটিনই এই সমস্যার মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই শুধু বারবার চুল আঁচড়ানোর পরিবর্তে চুলের প্রকৃত সমস্যাটি বুঝে তার যত্ন নেওয়া জরুরি।
মনে রাখবেন, সুন্দর চুলের জন্য দামি প্রসাধনী নয়, প্রয়োজন নিয়মিত ও সঠিক পরিচর্যা। আর যদি হঠাৎ অতিরিক্ত জটের সঙ্গে চুল ভাঙা, পড়া বা মাথার ত্বকের সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো। সঠিক যত্ন ও কয়েকটি ছোট অভ্যাসের পরিবর্তনেই চুলের জট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।