কানের পর্দা আমাদের শ্রবণশক্তি রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় কানের পর্দা ফেটে যাওয়াকে ইয়ারড্রাম পারফোরেশন (Eardrum Perforation) বলা হয়। বিভিন্ন কারণে কানের পর্দায় ছিদ্র বা ফাটল তৈরি হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না করালে শ্রবণশক্তির সমস্যা এবং কানে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
কানের পর্দা ফেটে যাওয়ার কারণ কী?
কানের পর্দা ফেটে যাওয়ার বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। যেমন—
কানে অতিরিক্ত জোরে থাপ্পড় বা আঘাত লাগা।
কানে দেশলাই কাঠি, কটন বাড বা অন্য কোনো বস্তু ঢোকানো।
কানের মধ্যবর্তী অংশে সংক্রমণ বা পুঁজ জমা।
প্রচণ্ড শব্দ বা বিস্ফোরণের আওয়াজ।
বিমানযাত্রা বা ডাইভিংয়ের সময় বায়ুচাপের আকস্মিক পরিবর্তন।
কানের পর্দা ফেটে যাওয়ার লক্ষণ কী কী?
কানের পর্দা ফেটে গেলে সাধারণত কিছু লক্ষণ দেখা যায়। যেমন—
১. হঠাৎ কানে তীব্র ব্যথা হওয়া, আবার কখনো ব্যথা কমে যাওয়া।
২. কান দিয়ে জল, পুঁজ অথবা রক্ত বের হওয়া।
৩. কানে শোঁ শোঁ বা ভোঁ ভোঁ শব্দ হওয়া।
৪. আগের তুলনায় কম শুনতে পাওয়া।
৫. মাথা ঘোরা বা ভারসাম্য রাখতে অসুবিধা হওয়া।
৬. কানে চাপ অনুভব করা।
তবে এসব লক্ষণ থাকলেই যে কানের পর্দা ফেটেছে, তা নিশ্চিত নয়। চিকিৎসকের পরীক্ষা প্রয়োজন।
কানের পর্দা ফেটে গেলে কীভাবে উপশম পাবেন?
কানের পর্দা ফেটে গেলে আতঙ্কিত না হয়ে কিছু সতর্কতা মেনে চলুন।
কান সবসময় শুকনো রাখুন।
স্নানের সময় কানে জল ঢোকা থেকে সাবধান থাকুন।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো কানের ড্রপ ব্যবহার করবেন না।
ব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথানাশক ওষুধ নিতে পারেন।
কানে তেল, জল বা ঘরোয়া কোনো উপাদান দেবেন না।
কানের পর্দা ফেটে গেলে কী করণীয়?
কানে এমন সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত একজন নাক-কান-গলা (ENT) বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। চিকিৎসক অটোস্কোপের সাহায্যে কানের পর্দা পরীক্ষা করতে পারেন। প্রয়োজনে শ্রবণশক্তির পরীক্ষাও করা হয়।
অনেক ক্ষেত্রে ছোট ছিদ্র কয়েক সপ্তাহ থেকে প্রায় দুই মাসের মধ্যে নিজে থেকেই সেরে যায়। তবে সংক্রমণ বা বড় ছিদ্র থাকলে ওষুধ কিংবা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।
বিশেষত কান দিয়ে রক্ত বা পুঁজ বের হলে, হঠাৎ শ্রবণশক্তি কমে গেলে, তীব্র মাথা ঘোরা বা প্রচণ্ড ব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
কানের পর্দা ফেটে যাওয়া অবহেলা করার মতো সমস্যা নয়। সঠিক সময়ে চিকিৎসা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চললে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সুস্থ হওয়া সম্ভব। তাই কানে কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে নিজে চিকিৎসা না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।