ওঙ্কার ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজায় শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য হামাসকে ২০ দফা প্রস্তাবে রাজি হওয়ার হুমকি দিয়ে চলেছিল বগত কয়েক দিন ধরেই। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যদি এখনও শান্তি সমঝোতায় রাজি না হয় তাহলে আসন্ন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে হামাসের জন্য। দীর্ঘ সময় ধরে হামাস এ বিষয়ে কোনও স্পষ্ট মন্তব্য করেনি। কিন্তু ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেন হামাসের জন্য। সেই সময়সীমার মধ্যেই প্রস্তাবে রাজি না হলে গোষ্ঠীটিকে ভোগ করতে হবে “নরক যন্ত্রণা”। এই কড়া সতর্কবার্তার পর অবশেষে হামাস একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানায়, তারা পরিকল্পনার বিষয়গুলি খতিয়ে দেখেছে এবং বন্দি বিনিময়সহ কয়েকটি মূল শর্তে সম্মত হয়েছে।
ট্রাম্পের ঘোষিত ২০ দফা প্রস্তাব অনুযায়ী গাজার বাসিন্দাদের স্থানান্তর করা হবে না, তারা গাজাতেই থাকবে। ইজরায়েল ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহার করবে এবং সেখানে একটি অস্থায়ী প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা হবে, যেখানে প্যালেস্টাইনি প্রতিনিধিদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা যুক্ত থাকবেন। হামাস যদি প্রস্তাবে সাড়া দেয়, তবে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সব ইজরায়েলি বন্দি মুক্তি দিতে হবে এবং তার বদলে ইজরায়েলে কারাবন্দি থাকা ২৫০ জন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত প্যালেস্টাইনপন্থী মুক্তি পাবে। পাশাপাশি গাজার ধ্বংসস্তূপ সরানো, অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ, রাস্তা-পরিকাঠামো মেরামত এবং সাধারণ মানুষের বসবাসযোগ্য পরিবেশ তৈরির কাজ শুরু হবে।
হামাস জানিয়েছে, তারা বন্দি বিনিময় এবং পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানাচ্ছে। তবে প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে তাদের শর্ত স্পষ্ট, গাজা পরিচালনার দায়িত্ব আন্তর্জাতিক কোনও সংস্থার হাতে নয়, বরং প্যালেস্টাইনি জাতীয় কাঠামোর অধীনেই থাকা উচিত। হামাসের বক্তব্য, এই প্রশাসনই প্রকৃতপক্ষে গাজার মানুষের প্রতিনিধি হতে পারে। গাজার অসামরিকীকরণ নিয়ে এখনও তারা সরাসরি কিছু বলেনি, তবে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় নিজেদের অংশগ্রহণ চায় বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।
ফলে স্পষ্ট হচ্ছে, ট্রাম্পের প্রস্তাবে হামাস আপাতত নরম সুরে এগোচ্ছে, যদিও নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থানও বজায় রাখছে। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ নিয়ে আরও চাপ আসতে পারে এবং ইজরায়েলকেও ধাপে ধাপে পরিকল্পনা কার্যকর করতে হবে। গাজায় যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিস্থিতি থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্তি দিতে এবং স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনতে এই পরিকল্পনা কতটা কার্যকর হয়, তা এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
