ওঙ্কার ডেস্ক: নদিয়ার হাঁসখালি কাণ্ডে দোষী সাব্যস্তদের সাজা ঘোষণা করল রানাঘাট মহকুমা আদালত। মঙ্গলবার দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিচারক এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। ২০২২ সালে নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও তার পর মৃত্যুর ঘটনায় যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল, তাঁদের মধ্যে একাধিক জনকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়েছে। আদালতের এই রায়কে কেন্দ্র করে গোটা রাজ্যজুড়ে আবারও আলোচনায় উঠে এল সেই নৃশংস ঘটনার স্মৃতি।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, যাঁদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, তাঁদের মধ্যে তিন জনকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়েছে। গণধর্ষণ, হত্যা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ও প্রমাণ লোপাটের মতো একাধিক ধারায় তাঁদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়। বিচারক রায়ে উল্লেখ করেন, এই অপরাধের নৃশংসতা এবং সামাজিক প্রভাব এতটাই গভীর যে কঠোরতম শাস্তি দেওয়া ছাড়া অন্য কোনও পথ খোলা ছিল না। এ ছাড়াও মামলায় দোষী সাব্যস্ত আরও কয়েক জনকে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কারও সাজা পাঁচ বছর, আবার কারও সাজা তার চেয়েও বেশি। আদালত জানিয়েছে, অপরাধ সংঘটনের সময় যাঁরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন, এমনকি প্রমাণ লোপাটে যাঁরা সাহায্য করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সাজা ঘোষণার সময় আদালত স্পষ্ট করে দেয়, এই ধরনের অপরাধে কোনওরকম সহানুভূতির জায়গা নেই।
রায় ঘোষণার মুহূর্তে নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যদের চোখে জল দেখা যায়। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় ছিলেন। পরিবারের দাবি ছিল, প্রভাবশালী মহলের চাপ থাকা সত্ত্বেও যেন দোষীরা শাস্তির বাইরে না যায়। আদালতের এই রায়ের মাধ্যমে তাঁরা কিছুটা হলেও মানসিক স্বস্তি পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। অন্যদিকে সাজাপ্রাপ্ত দোষীদের বাড়ির লোক অভিযোগ তুলেছে সমস্ত আরোপ মিথ্যা। পুরো ঘটনার কোনো সত্যতা নেই।
হাঁসখালি কাণ্ড ২০২২ সালে রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি করেছিল। অভিযোগ ছিল, একটি অনুষ্ঠানের নাম করে নাবালিকাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করা হয় এবং গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়। পরের দিন অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর তদন্ত ও পুলিশের ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত মামলার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে যায়।
দীর্ঘ তদন্ত, সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং শুনানির পর আদালত এই রায় দিল। বিচারকের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, সমাজে ভয় ধরানো ও দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য এই ধরনের অপরাধে কঠোর শাস্তি জরুরি। হাঁসখালি কাণ্ডে সাজা ঘোষণার মাধ্যমে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে একটি শক্ত বার্তা দেওয়া হল বলে মনে করছে আইনজীবী ও মানবাধিকার মহল।
