ওঙ্কার ডেস্ক: আগামী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা করেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস। সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য তৎপরতা শুরু করল বাংলাদেশে নিষিদ্ধ হওয়া রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুই জন আইনজীবী নিয়োগ করেছেন রাষ্ট্রসঙ্ঘে। আওয়ামী লীগের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য তাঁরা সওয়াল করবেন। আইনজীবী নিয়োগের আগে, ভারতের একটি গোপন ডেরায় বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেন হাসিনা।
চলতি বছরের মে মাসে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আওয়ামী লীগের সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে। যত দিন না আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ এবং দলটির নেতাদের বিচার শেষ হচ্ছে ততদিন এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুরু করেছে। ২০২৪ সালের আগস্টে ঢাকা ত্যাগের আগে তাঁর শাসনকালে ছাত্র-সহ শতাধিক প্রতিবাদীকে হত্যার অপরাধে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দাবি করেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে কখনও পদত্যাগ করেননি। তিনি ব্রিটিশ মিডল টেম্পলের ডাউটি স্ট্রিট চেম্বার্সের স্টিভেন পাওলস কেসি এবং অ্যালেক্স টিনসলে কেসিকে আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ করেছেন। তাঁরা আওয়ামী লীগের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘের স্বাধীন গণতান্ত্রিক আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিশেষজ্ঞ এবং অন্যান্য বিশেষ দূতদের কাছে জরুরি শুনানির আর্জি জানাবেন।
স্টিভেন পাওলস কেসি এক জন বিশেষজ্ঞ ফৌজদারি আইনজীবী যাঁর আন্তর্জাতিক অপরাধ, প্রত্যর্পণ এবং মানবাধিকার বিষয়ে বিশেষ দক্ষতা রয়েছে। তিনি একাধিক হাই প্রোফাইল মানবতাবিরোধী ‘গুরুতর অপরাধের’ মামলা লড়েছেন। তিনি ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক আইন এবং অপরাধের ক্ষেত্রে কাজ করছেন। অন্য দিকে অ্যালেক্স টিনসলে কেসিও আন্তর্জাতিকভাবে বিখ্যাত ব্যারিস্টার। যিনি হাই প্রোফাইল মানবাধিকার লঙ্ঘনের মামলায় বিশেষজ্ঞ। উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের হয়ে মামলা লড়েছিলেন তিনি।
