বাড়ির বারান্দা, ছাদ কিংবা ছোট্ট জানালার ধারে সহজেই কিছু ভেষজ উদ্ভিদ লাগানো যায়। এগুলো ঘরের সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি রান্না ও দৈনন্দিন জীবনে নানা কাজে আসে। অল্প যত্নেই বেড়ে ওঠে এমন তিনটি পরিচিত ভেষজ উদ্ভিদ হলো তুলসি, পুদিনা ও অ্যালোভেরা।
১. তুলসি
তুলসি ভারতীয় বাড়িতে অত্যন্ত পরিচিত একটি উদ্ভিদ। এটি টবেই সহজে চাষ করা যায়। তুলসির জন্য এমন জায়গা বেছে নিন যেখানে প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা সূর্যের আলো পৌঁছায়। মাটি যেন জল ধরে না রাখে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। মাটির উপরিভাগ শুকিয়ে গেলে পরিমাণমতো জল দিন। নিয়মিত শুকনো পাতা ও ডাল ছেঁটে দিলে গাছটি আরও ঘন হয়ে বেড়ে উঠতে পারে।
তুলসি ঐতিহ্যগতভাবে বিভিন্ন ঘরোয়া ব্যবহারে পরিচিত। এর পাতা চা বা অন্যান্য পানীয়তে ব্যবহার করা হয়। সর্দি কাশি নিরাময়ে তুলসীর ভূমিকা অনস্বীকার্য।
২. পুদিনা
পুদিনা দ্রুত বেড়ে ওঠে এবং টবে চাষের জন্য বেশ উপযোগী। মাঝারি আকারের একটি টব, উর্বর ও ঝুরঝুরে মাটি এবং পর্যাপ্ত আলো হলেই শুরু করা যায়। মাটি একেবারে শুকিয়ে যেতে দেবেন না, তবে অতিরিক্ত জলও জমতে দেবেন না। পুদিনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, তাই প্রয়োজনে নিয়মিত ডালপালা ছেঁটে রাখতে হবে।
পুদিনার সতেজ পাতা চাটনি, শরবত, সালাদ ও বিভিন্ন খাবারে ব্যবহার করা যায়। পুদিনার সুবাস ও স্বাদ খাবারে সতেজতা যোগ করে।
৩. অ্যালোভেরা
অ্যালোভেরা কম যত্নে বেড়ে ওঠা একটি জনপ্রিয় গাছ। বেলে বা ভালো জল নিষ্কাশন হয় এমন মাটি এবং পর্যাপ্ত আলো এর জন্য উপযোগী। টবে জল জমে থাকলে শিকড় পচে যেতে পারে, তাই মাটি শুকিয়ে যাওয়ার পর জল দেওয়াই ভালো।
অ্যালোভেরার পাতার ভেতরের জেল প্রসাধনী ও ত্বকের যত্নে বহুল ব্যবহৃত হয়। তবে ত্বকে ব্যবহারের আগে অ্যালার্জি বা সংবেদনশীলতার বিষয়টি বিবেচনা করা জরুরি এবং কাটা পাতার হলুদ ল্যাটেক্স অংশ খাওয়া উচিত নয়।
ছোট্ট জায়গাতেও এই তিনটি গাছ বাড়ির সবুজ পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলতে পারে। নিয়মিত আলো, সঠিক জল দেওয়া এবং উপযুক্ত মাটিই সুস্থ ভেষজ গাছের মূল চাবিকাঠি।