শ্বেতী বা ভিটিলিগো (Vitiligo) হলো এমন একটি ত্বকের রোগ, যেখানে ত্বকের রং তৈরি করার জন্য দায়ী মেলানোসাইট কোষ নষ্ট বা অকার্যকর হয়ে যাওয়ার ফলে শরীরের বিভিন্ন অংশে সাদা দাগ দেখা দেয়। অনেকের ধারণা, শ্বেতী একটি জন্মগত বা ছোঁয়াচে রোগ। আসলে সাধারণভাবে শ্বেতী জন্মগত রোগ নয়। এটি যেকোনো বয়সে দেখা দিতে পারে, যদিও অনেকের ক্ষেত্রে শৈশব বা তরুণ বয়সেই প্রথম লক্ষণ প্রকাশ পায়। খুব বিরল ক্ষেত্রে জন্মের সময় থেকেই ত্বকের রং কম বা সাদা দাগ থাকতে পারে, তবে সেটিকে সাধারণ ভিটিলিগোর সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক নয়।
শ্বেতীর প্রধান লক্ষণ হলো ত্বকের স্বাভাবিক রং ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে দুধের মতো সাদা দাগ তৈরি হওয়া। প্রথমে ছোট দাগ দেখা দিলেও সময়ের সঙ্গে তা বড় হতে পারে বা শরীরের অন্য অংশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। মুখ, হাত, পা, আঙুল, ঠোঁট, চোখের চারপাশ, কনুই, হাঁটু ও শরীরের ভাঁজে দাগ বেশি দেখা যেতে পারে। মাথার চুল, ভ্রু, চোখের পাপড়ি বা দাড়ির কোনো অংশও সাদা হয়ে যেতে পারে। তবে সবার ক্ষেত্রে একই রকম লক্ষণ দেখা যায় না।
শ্বেতী ছোঁয়াচে নয়। আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে হাত মেলানো, একই খাবার খাওয়া, পাশাপাশি বসা বা দৈনন্দিন মেলামেশার মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায় না। এটি কোনো পাপ, অভিশাপ বা অপরিষ্কার থাকার ফলও নয়। কিছু ক্ষেত্রে বংশগত প্রবণতা ও শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা মেলানোসাইটকে আক্রমণ করার মতো অটোইমিউন প্রক্রিয়া এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।
শরীরে অস্বাভাবিক সাদা দাগ দেখা দিলে নিজে থেকে কোনো মলম, ভেষজ ওষুধ বা স্টেরয়েড ব্যবহার না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। চিকিৎসক ত্বক পরীক্ষা করে প্রয়োজনে অন্যান্য পরীক্ষা করতে পারেন। রোগের ধরন ও বিস্তারের ওপর নির্ভর করে চিকিৎসায় বিশেষ ধরনের ক্রিম বা মলম, ফোটোথেরাপি এবং অন্যান্য পদ্ধতি ব্যবহার করা হতে পারে। চিকিৎসায় ধৈর্য জরুরি, কারণ ফল পেতে সময় লাগতে পারে।
শ্বেতী হলে আক্রান্ত স্থানকে অতিরিক্ত রোদ থেকে সুরক্ষিত রাখা এবং বাইরে বের হলে উপযুক্ত সানস্ক্রিম ব্যবহার করা উপকারী। পাশাপাশি রোগটি নিয়ে অযথা ভয় বা লজ্জা না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে সহযোগিতা নেওয়া উচিত। সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।