নিজস্ব প্রতিনিধি, পশ্চিম বর্ধমান: পুলিশের বিরুদ্ধে টাকা তোলার অভিযোগ তুলে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তমলুকের পরিবহন ব্যবসায়ী। তৃণমূল ও পুলিশের বিরুদ্ধে তোলা ও হুমকির অভিযোগ করেছেন তিনি। এমনকি কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা চেয়ে হাইকোর্টের কাছে রিট পিটিশন দায়ের করেছেন ব্যবসায়ী সন্দীপ কুইলা। অস্থায়ী অস্ত্রধারী নিরাপত্তারক্ষী যাতে পান তার আবেদন করেন তিনি।
তমলুক থানার নিমতৌড়ির বাসিন্দা তথা পরিবহন ব্যবসায়ী সন্দীপ কুইলা তৃণমূল কংগ্রেসের দুষ্কৃতী ও পুলিশের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। মোট ৭ টি প্রাইভেট কোম্পানি, ৩০০ ট্রাক ও এসি বাসের মালিক, সন্দীপ কুইলার দাবি, তোলা দিতে অস্বীকার করায়, একে একে তার ট্রাক ও এসি বাসের ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তার অভিযোগ, তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা হুমকি ও হামলা চালাচ্ছে। পুলিশের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তার পরিবহন সংস্থার কার্যক্রম স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তার নিজস্ব গ্যারেজে বহু ট্রাক পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। নিমতৌড়িতে তার পরিবহন অফিসও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। প্রশাসন ও পুলিশকে বারবার জানানো হলেও কোনও সুরাহা হয়নি বলেও দাবি করেছেন তিনি।
পরিস্থিতি এতটাই সংকটজনক যে তার প্রাণ সংশয়ের আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি হাইকোর্টে জানিয়েছেন এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তার আবেদন করেছেন। রাজ্য পুলিশের উপর আস্থা নেই বলেও আদালতে উল্লেখ করেছেন তিনি। কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা না পেলে অস্ত্রধারী অস্থায়ী নিরাপত্তা পাওয়ার অনুমতি চেয়েছেন বলে দাবি করেছেন সন্দীপ কুইলা। পেশায় ইঞ্জিনিয়ার সন্দীপ কুইলার সাতটি সংস্থা রয়েছে। বর্তমানে তার সব ব্যবসাই অচল হয়ে পড়েছে। এর ফলে তার সংস্থার প্রায় এক হাজার কর্মী কাজ হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ।
এই প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, এই রাজ্যে এমন তো হবেই , পুলিশ তোলা না দিলে তৃণমূলের নেতাদের বাড়ি গাড়ি হবে কী করে।
তোলা ও পুলিশের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হওয়ার ফলেই তাকে এই পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে বলে দাবি তার। এমনকি পুলিশের বিরুদ্ধে বেআইনি কাজ কর্মের প্রতিবাদ করায় পুলিশ ষড়যন্ত্র করে তাকে গুলি পর্যন্ত করে দিতে পারে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেস বা পুলিশের তরফে এখনও ক্যামেরার সামনে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
