ওঙ্কার ডেস্ক: অর্ধ শতক ধরে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে মন্দির নিয়ে সংঘাত চলছে। নতুন করে সেই সংঘাত আবারও মাথাচড়া দিয়েছে। কিন্তু কেন এই মন্দির নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত?
জানা যায়, কম্বোডিয়ার ডাংরেক পর্বতমালার ৫২৫ মিটার উঁচু পাহাড়ের উপর অবস্থিত ৯০০ বছরের পুরনো প্রিয়া বিহার মন্দির, যেটি ভগবান শিবের উদ্দেশ্যে নিবেদিত একটি হিন্দু মন্দির। খেমার সাম্রাজ্যের অধীনে নির্মিত হওয়া এই মন্দির কেবল কম্বোডিয়ানদের জন্যই নয়, থাইল্যান্ডের বহু মানুষের মনে পবিত্র ধর্মীয় স্থান হিসেবে বিবেচিত হয়। এর পশ্চিমে প্রায় ৯৫ কিলোমিটার দূরে তা মুয়েন থম মন্দির অবস্থিত, যা দ্বাদশ শতাব্দীর একটি শিব মন্দির।
এই মন্দিরগুলি অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে দুই দেশের মধ্যে সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ড এবং কম্বোডিয়ার সীমান্তে আবার সংঘর্ষ শুরু হয়, যার ফলে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন বহু। যা এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে সহিংস ঘটনা বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। থাইল্যান্ডের সুরিন প্রদেশের তা মুয়েন থম মন্দিরের কাছে বৃহস্পতিবার ভোরে সংঘর্ষ শুরু হয়। থাই সামরিক ঘাঁটির কাছে কম্বোডিয়ার সেনারা আকাশপথে নজরদারির জন্য ড্রোন মোতায়েন করলে শুরু হয় সংঘর্ষ। স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ২০ নাগাদ তীব্র গুলি বিনিময় শুরু হয়। থাইল্যান্ডের তরফে দাবি করা হয়েছে, কম্বোডিয়ার তরফে উস্কানির পর তাদের বাহিনী আত্মরক্ষায় গুলি চালিয়েছে। যদিও কম্বোডিয়ার অভিযোগ, থাইল্যান্ড তাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও লাওসের মধ্যে যে এলাকা রয়েছে, তা এমারেন্ড ট্রায়াঙ্গেল নামে পরিচিত। একাধিক প্রাচীন মন্দির অবস্থিত এখানে। ‘পান্না ত্রিভুজ’ বা এমারেল্ড ট্রায়াঙ্গেলে ঘন জঙ্গলের মধ্যে থাকা এই মন্দির কাদের দখলে থাকবে তা নিয়ে বারবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। ২০০৮ সালে কম্বোডিয়া যখন এই অংশে অবস্থিত শতাব্দী প্রাচীন মন্দিরকে ইউনেসকোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসাবে ঘোষণা করার আর্জি জানায়। তাতে পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে ওঠে। গোটা বিষয়টিতে আপত্তি জানায় থাইল্যান্ড।
