ওঙ্কার ডেস্ক: বেলডাঙায় হুমায়ুন কবীরের ‘বাবরি মসজিদ’ নির্মাণে কোনও হস্তক্ষেপ করল না কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে রাজ্য সরকারকে। শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ৬ ডিসেম্বর ১৯৯২ সালে অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছিল। সেই দিনেই মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের শিলান্যাস করার কথা ঘোষণা করেন ভরতপুরের বিধায়ক। তাঁর এই সিদ্ধান্ত সংবিধানবিরোধী বলে দাবি করে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই মামলায় আদালত এদিন স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, মসজিদ নির্মাণে কোনও বাধা নেই। বিচারপতি জানান, ‘এ ক্ষেত্রে আদালত হস্তক্ষেপ করবে না।’ এদিন আদালতে মামলাকারীর পক্ষে সওয়াল করেন আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি যুক্তি দেন, এই ধরনের কাজে এলাকায় অশান্তি তৈরি হতে পারে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে রাজ্যকে। এ বিষয়ে কেন্দ্রের বক্তব্য জানতে চেয়েছিল আদালত, কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়, সংবেদনশীল ওই এলাকায় আগে অশান্তি হয়েছে। সে কারণে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হয়েছে। বিচারপতি জানান, নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করতে রাজ্যকে সাহায্য করবে কেন্দ্রীয় সরকার।
প্রসঙ্গত, ৪ ডিসেম্বর রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস হুমায়ুন কবীরকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সাসপেন্ড করেছে। ভরতপুরের বিতর্কিত বিধায়ককে ছেঁটে ফেলার কথা ঘোষণা করেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। ঘটনাচক্রে ওই দিনই মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভা ছিল। সেই সভায় আমন্ত্রিতও ছিলেন হুমায়ুন। কিন্তু সভাস্থলে দলের সিদ্ধান্তের কথা জানতে পারেন ভরতপুরের বিধায়ক। এর পরেই সভাস্থল ছেড়ে বেরিয়ে আসেন তিনি। আগামী ২২ ডিসেম্বর নতুন দল গড়ারও ঘোষণা করেন হুমায়ুন।
