ওঙ্কার ডেস্ক: প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবিরের বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপনের পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে সমালোচনা তুঙ্গে। এর মধ্যেই জানা গেছে ভিত্তি স্থাপনের একদিনের মাথায় অনুদানের জন্য বরাদ্দ ১১টি দানবাক্স ভরে গেছে। পাশাপাশি অনলাইনেও বিপুল পরিমানে অনুদান এসেছে। দেশ-বিদেশ থেকে বাবরি মসজিদ স্থাপনের জন্য বহু মানুষ অর্থ দান করেছে বলে জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই কয়েক কোটি টাকার অনুদান সংগ্রহ করেছে হুমায়ুনের বাবরি মসজিদ ফান্ড।
গত ৬ ডিসেম্বর মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় এবং সেই অনুষ্ঠানের দিন থেকেই শুরু হয় দান সংগ্রহ। অনুষ্ঠানে ভিড় হয়েছিল হাজার হাজার মানুষের। কেউ নগদ অর্থ দিয়েছেন, কেউ আবার অনলাইনে দানের পথ বেছে নিয়েছেন। পাশাপাশি অনেকে ইট, বালি ও নির্মাণসামগ্রী নিজ হাতে পৌঁছে দিয়েছেন। হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন অনুষ্ঠানের জায়গায় ১১টি বড় দানবাক্স রাখা হয়েছিল। দানের স্রোত প্রথম দিন থেকেই এত প্রবল হয় যে বাক্সগুলো দ্রুত ভর্তি হতে শুরু করে। অনুষ্ঠান শেষে চারটি দানবাক্স ও একটি ব্যাগ খুলে টাকা গণনা করা হয়। সেখান থেকেই উঠে আসে বিপুল অঙ্ক। নগদ হিসেবে কয়েক কোটি টাকা পাওয়া যায়। এছাড়া অনলাইন দানের অঙ্কও বেশ বিপুল পরিমান। কিউআর কোড স্ক্যান করে তাৎক্ষণিক দান করার সুবিধা থাকায় অনেকেই দূর থেকে সাহায্য পাঠিয়েছেন।
গণনা নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করতে একটি বিশেষ দলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। নোট গোনার জন্য ব্যবহার করা হয় ইলেকট্রনিক গণনা যন্ত্র। পাশাপাশি নিরাপত্তায় ছিল নজরদারি ব্যবস্থা। সংগৃহীত অর্থ একাধিক অংশে ভাগ করে সংরক্ষণ করা হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়া চলেছে নিয়ম মেনে বলে দাবি আয়োজকদের। তাঁদের বক্তব্য, প্রত্যেকটি টাকা হিসেব রাখার জন্য রেজিস্টারে নথিভুক্ত করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে দানের তালিকা প্রকাশ করা হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তাঁরা।
হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, এই উদ্যোগে মানুষ যে পরিমাণে সাড়া দিয়েছেন, তা তাঁদের প্রত্যাশার বহু গুণ বেশি। তাঁর দাবি, শুধু স্থানীয় গ্রামবাসীই নন, আশপাশের জেলা এবং রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকেও লোকজন এসে দান করেছেন। কেউ কেউ ইট বয়ে এনে জমিয়ে দিয়েছেন নির্মাণস্থলের পাশে। তাঁর কথায়, “এটা শুধু একটা ধর্মীয় স্থাপনা নয়, মানুষের ইচ্ছা ও বিশ্বাসের মেলবন্ধন। অনেকেই বলেছেন, মসজিদ তৈরি হলে এলাকাবাসী উপকৃত হবে।”
তবে যত অর্থ সংগ্রহ বাড়ছে, ততই শুরু হয়েছে প্রশ্নও। কোথা থেকে এত টাকা এল, দানকারীদের ঠিক কতজন এবং তাঁদের পরিচয় কী এসব জিজ্ঞাসা উঠছে সমাজের বিভিন্ন স্তরে। পাশাপাশি এত বড় অর্থব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণ স্বচ্ছ কিনা, সে নিয়েও সংশয় রয়েছে। প্রশাসনিক মহলের একাংশ মনে করছে, এত বড় উদ্যোগ হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন ও আয়-ব্যয়ের বিস্তারিত প্রকাশ করা জরুরি। যদিও আয়োজক পক্ষের দাবি, সবরকম নথিপত্র রক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে তা উপস্থাপন করা হবে।
এদিকে স্থানীয় মানুষের একটি বড় অংশ বিষয়টি নিয়ে গর্বিত হলেও রাজনীতির অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, মসজিদ নির্মাণ মূলত সামাজিক প্রয়োজনে হলেও এর রাজনৈতিক তাৎপর্যও রয়েছে। আবার কেউ বলছেন, মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে কেন্দ্র করে কোনও উদ্দেশ্যমূলক প্রচার করা হলে তা বিভাজন তৈরি করতে পারে।
