ওঙ্কার ডেস্ক: সম্প্রতি রাজ্যের শাসকদল থেকে বেড়িয়ে নিজের দল গড়েছেন মুর্শিদাবাদের হুমায়ুন কবীর। দলের নাম রেখেছেন জনতা উন্নয়ন পার্টি। তারপর থেকেই নাকি তাঁকে বারবার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন রাজনৈতক দলের তরফ থেকে, এমনটাই দাবি তুলেছেন হুমায়ুন ও তাঁর পরিবার। তাছাড়া বাবরি মসজিদের শিলান্যাসের পর থেকেই তাঁর নাকি শত্রু সংখ্যা বেড়েছে বলে ভইয়ে আছেন জনতা উন্ননয়ন পার্টির সুপ্রিমো। তাই নিজের সুরক্ষার জন্য রাজ্য পুলিশের উপর ভরসা রাখতে পারছেন না হুমায়ুন। কলকাতা হাইকোর্টে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর আবেদন জানাবেন তিনি বলে জানিয়েছেন খোদ হুমায়ুন কবীর।
সংবাদ মাধ্যাম ‘দ্য ওয়াল’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হুমায়ুন জানান, নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক বিতর্ক ও রাজনৈতিক টানাপড়েনের আবহে নিজের প্রাণনাশের আশঙ্কার কথা তুলে ধরে তিনি কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা চেয়ে আদালতে আবেদন করতে চলেছেন বলে জানিয়েছেন। হুমায়ুন কবীরের দাবি, বর্তমানে রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে যে নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে তা পরিস্থিতির নিরিখে যথেষ্ট নয়। তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও প্রকাশ্য কর্মসূচির পর থেকে হুমকি বাড়ছে এবং সেই কারণেই নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য পুলিশের উপর ভরসা না রেখে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তিনি।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহ ধরে মুর্শিদাবাদ রাজনীতিতে হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে উত্তেজনা বেড়েছে। বিভিন্ন ইস্যুতে প্রকাশ্যে বক্তব্য ও কর্মসূচির জেরে রাজনৈতিক বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। সেই সঙ্গে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটেই বিধায়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, আদালতের কাছে তাঁর আবেদন মূলত ব্যক্তিগত নিরাপত্তার স্বার্থেই। কোনও রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্য নেই বলেই তিনি দাবি করেছেন। হাই কোর্টে আবেদন দাখিল হলে রাজ্য সরকার ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও বিষয়টি বিচারাধীন হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
