ওঙ্কার ডেস্ক: পাঁচদিনের বিদেশ সফরে রয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সৌদি আরব, নেদারল্যন্ডস্-এর সফর সেরে তিনি পৌঁছে গেছেন সুইডেনে। সেখানে প্রবাসী বাঙালিরা প্রধানমন্ত্রীকে বাঙালী ধাঁচে বরণডালা নিয়ে বরণ করে আহ্বান জানান। পাশাপাশি সুইডেনের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘রয়্যাল অর্ডার অব দ্য পোলার স্টার, কমান্ডার গ্র্যান্ড ক্রস’ প্রদান করা হয়েছে তাঁকে। এই সম্মান গ্রহণের মাধ্যমে মোদি প্রথম এশীয় নেতা হিসেবে এই বিরল মর্যাদা অর্জন করলেন, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ভারতের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকে আরও একবার তুলে ধরল।
সুইডেন সফরে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে এই বিশেষ সম্মান প্রদান করা হয় দুই দেশের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে। বাণিজ্য, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভারত ও সুইডেনের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে তাঁর অবদানের জন্যই এই সম্মান প্রদান করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সুইডেন সরকার।
সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসনের উপস্থিতিতে এই সম্মান তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও গভীর করার বার্তা দেওয়া হয়। মোদি সম্মান গ্রহণের পরে বলেন, এই স্বীকৃতি তাঁর ব্যক্তিগত নয়, বরং ভারতের ১৪০ কোটিরও বেশি মানুষের সম্মান। তিনি জানান, ভারত ও সুইডেনের মধ্যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সবুজ প্রযুক্তি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভিত্তিতে সম্পর্ক আগামী দিনে আরও শক্তিশালী হবে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে এর আগেও একাধিক আন্তর্জাতিক সম্মানে ভূষিত হয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। তবে সুইডেনের এই সর্বোচ্চ সম্মান তাঁর কূটনৈতিক সাফল্যের মুকুটে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পালক যোগ করেছে। আন্তর্জাতিক মহলের মতে, এটি শুধু একজন রাষ্ট্রনেতার ব্যক্তিগত সম্মান নয়, বরং ভারতকে একটি শক্তিশালী বৈশ্বিক অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ারও প্রতীক। সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপীয় দেশগুলির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ক্রমশ জোরদার হয়েছে। বিশেষত প্রতিরক্ষা, সবুজ জ্বালানি, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের মতো ক্ষেত্রে ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হিসেবে দেখছে পশ্চিমী দেশগুলি। সুইডেনের এই পদক্ষেপ সেই সম্পর্কের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করল।
কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সম্মান ভারতের আন্তর্জাতিক অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং ভবিষ্যতে ইউরোপের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ক বৃদ্ধিতে নতুন দিশা দেখাবে। প্রধানমন্ত্রী মোদির এই সম্মান প্রাপ্তি ভারতের বৈদেশিক নীতির সফলতার প্রতীক হিসেবেই দেখা হচ্ছে।