ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের বিদেশবিষয়ক উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যু নিয়েই ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারিত হবে না। তাঁর কথায়, দুই দেশের সম্পর্ক বহুস্তরীয়, দীর্ঘদিনের আস্থার ভিত্তিতে তৈরি, ফলে কোনও একটি রাজনৈতিক প্রশ্নকে কেন্দ্র করে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা থমকে যাবে এমন আশঙ্কা নেই। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি অর্থনীতি, বাণিজ্য, সীমান্ত নিরাপত্তা, জ্বালানি সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক প্রকল্পে দুই দেশের অংশীদারিত্ব অব্যাহত থাকবে।
ঢাকা পরিষ্কার জানিয়েছে, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আবেদন তাদের কাছে অগ্রাধিকার হলেও, কূটনৈতিক সম্পর্ক কেবল এই একটি ইস্যুতে সীমাবদ্ধ নয়। প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত আইনগত প্রক্রিয়া এবং আলোচনার রাস্তায় ঢাকা এগোবে, তবে সেটা ভারতের সঙ্গে অন্যান্য সহযোগিতাকে প্রভাবিত করবে না। উপদেষ্টার বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থই মুখ্য, অস্থায়ী রাজনৈতিক অবস্থান নয়।
তিনি মনে করিয়ে দেন যে, দুই দেশের সম্পর্ক নদীজল বণ্টন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পে যৌথ উদ্যোগের মতো বিষয়কে ঘিরেই এগিয়ে এসেছে। বিশেষ করে যোগাযোগ প্রকল্প, বিদ্যুৎ সংযোগ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে ভারত এবং বাংলাদেশের সহযোগিতা অপরিহার্য। তাই শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গে মতভেদ থাকলেও পারস্পরিক স্বার্থে কাজ চলবে নিজের গতিতে।
ঢাকার দাবি, নতুন সরকার ভারতসহ প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ ও বাস্তবমুখী নীতি বজায় রাখবে। তৌহিদ হোসেন বলেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক কখনও একক ইস্যু দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। বরং বহু ক্ষেত্রের পারস্পরিক সহযোগিতাই সম্পর্কের স্থায়িত্ব নির্ধারণ করে। তাঁর মতে, উভয় দেশেরই স্বার্থ নিহিত রয়েছে স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখায়, এবং সেই সূত্রেই কূটনৈতিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা ভবিষ্যতেও জারি থাকবে।
