স্পোর্টস ডেস্ক : করুণ নায়ার দীর্ঘ আট বছর পর ভারতীয় টেস্ট দলে সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু ইংল্যান্ড সফরে তিনটি টেস্ট খেললেও তিনি ব্যর্থ। এবার ইংল্যান্ড দলেও প্রায় ৮ বছরের অপেক্ষার শেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে ফিরছেন অলরাউন্ডার লিয়াম ডসন। চোটের কারণে আগেই ভারত সিরিজ থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন শোয়েব বশির। তাঁর পরিবর্তে লিয়াম ডসনকে প্রথম একাদশে নিয়েছে ইংল্যান্ড।
প্রথম একাদশে একমাত্র বদল এটাই। ৩৫ বছর বয়সী ডসন শেষবার টেস্ট খেলেছিলেন ২০১৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে, নটিংহ্যামে। তাঁর অভিষেক হয়েছিল ২০১৬ সালের ভারত সফরে, চেন্নাই টেস্টে। লম্বা বিরতির পর এখন আবার সেই ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই ফিরছেন তিনি। ডসন এখন পর্যন্ত তিনটি টেস্ট খেলেছেন। ৭ উইকেট শিকারের পাশাপাশি ব্যাট হাতে করেছেন ৮৪ রান, সর্বোচ্চ অপরাজিত ৬৬। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ইংল্যান্ডের তারকা হ্যারি ব্রুক বলেন, ‘সে খুব অভিজ্ঞ ও দক্ষ ক্রিকেটার। প্রায় সব জায়গাতেই সবার বিপক্ষে খেলেছে। আশা করি, তাঁর কাছ থেকে দারুণ পারফরম্যান্স পাব।’ চতুর্থ টেস্টের গুরুত্ব অপরিসীম। ইংল্যান্ড জিতলে সিরিজের ফয়সালা হয়ে যাবে। সিরিজে টিকে থাকতে ম্যাঞ্চেস্টার টেস্ট জিততেই হবে ভারতকে। প্রসঙ্গত, ম্যাঞ্চেস্টারে ভারত আজ পর্যন্ত একটা টেস্টও জেতেনি। ফলে ইংল্যান্ডের কাছে সুযোগ সিরিজ জেতার। তার আগেই ইংরেজ ক্রিকেটারেরা বুঝিয়ে দিয়েছেন, সব রকম পরিস্থিতি এবং সব রকম চ্যালেঞ্জ সামলাতে তাঁরা প্রস্তুত।
এদিকে ম্যাঞ্চেস্টারে আবহাওয়া আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। মঙ্গলবারও সেখানে বৃষ্টি হয়েছে। প্রথম দু’দিনই বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এমনকি শেষ দিনও বৃষ্টির আশঙ্কা থাকছে। ফলে, পুরো টেস্টটাই বৃষ্টিবিঘ্নিত হতে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার ম্যাচের প্রথম দিনে ম্যাঞ্চেস্টারের আকাশ থাকবে মেঘলা। সকাল এবং দুপুরের দিকে দু’এক পশলা মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের পিচ সাধারণত পেস বোলারদের সহায়তা করে। শুরুতে এই পিচে বাউন্স এবং সিম মুভমেন্ট পাওয়া যায়। তবে খেলা যত এগোবে, স্পিনাররা তত বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ম্যাচের শেষ দুই দিনে স্পিনাররা ভাল টার্ন পেতে পারেন।
এদিকে দুই দলের অধিনায়কের মধ্যে কথার লড়াই শুরু।ইংল্যান্ড অধিনায়ক ব্রেন স্টোকস হুঙ্কার দিয়ে জানালেন, ‘এটা বড় সিরিজ। তাই মাঠে বিতর্ক, রাগারাগি হতেই পারে। ইংল্যান্ড কি এতদিন ভাল ব্যবহার করেছে? অনেকটাই। আমরা ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু শুরু করব না। তবে আমরা পিছিয়েও আসব না।’
পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ১-২ এ পিছিয়ে ভারত। ম্যাঞ্চেস্টারে গিলদের ডু অর ডাই ম্যাচ। এই অবস্থায় দুই পক্ষই মাঠে মেজাজ হারাতে পারে। তবে যাই হোক না কেন, প্রস্তুত তাঁরা। চতুর্থ টেস্টের আগে হুঙ্কার ইংল্যান্ডের নেতার। লর্ডসে নিজেকে নিংড়ে দেন বেন। লম্বা স্পেল করেন। টেস্টের পর রিকভারি প্রক্রিয়া যে মোটেই সহজ ছিল না, সেটা জানাতে দ্বিধা করেননি। স্টোকস বলেন, ‘আমি টানা দু’দিন বিছানায় ছিলাম। মনে হয়েছিল, পরিবারের সঙ্গে আমি দীর্ঘ দূরত্বের সম্পর্কে আছি। এরকম রুদ্ধশ্বাস জয়ের পর ব্রেক সবসময় ভাল। পরের সপ্তাহে একই এনার্জি নিয়ে ঝাঁপানোর চেষ্টা করব।’ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে চতুর্থ টেস্টে খেলার স্পিরিট না মেনে খেলার অভিযোগ তুলে ভারত অধিনায়ক শুভমন গিল বললেন,’আমাকে ধোঁয়াশা দূর করতে দিন। সেদিন ইংল্যান্ড ব্যাটসম্যানরা সময় নষ্ট করছিল। হাতে ছিল সাত মিনিট। ক্রিজে আসতেই ৯০ সেকেন্ড দেরি করে ফেলে। ১০, ২০ নয়, ৯০ সেকেন্ড দেরিতে আসে ক্রিজে। বেশিরভাগ দলই এমন কৌশল অবলম্বন করে। ওদের জায়গায় যদি আমরা থাকতাম, তাহলে কম ওভার খেলার চেষ্টা করতাম। কিন্তু তার একটা পদ্ধতি থাকে। শরীরে যদি বলের আঘাত লাগে তাহলে ফিজিও মাঠে আসতেই পারেন। এর মধ্যে অস্বাভাবিকত্ব নেই। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের ৯০ সেকেন্ড পরে ক্রিজে আসা মেনে নেওয়া যায় না। আমার মনে হয় এটা ক্রিকেটের স্পিরিটের সঙ্গে মানানসই নয়।”
