ওঙ্কার ডেস্কঃ ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কবাণে জর্জরিত বিশ্বের একাধিক দেশ। ভারতেও শুল্কবাণের কোপ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেই আবহেই ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নয়ের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি সংক্রান্ত আলোচনা চূড়ান্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানিয়েছেন, গোটা বিশ্ব এই চুক্তিকে ‘সব চুক্তির জননী’ বলে অভিহিত করছে।
সূত্রের খবর, এই চুক্তি কার্যকর হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য ২৭টি দেশে ভারতের ৯০ শতাংশ পণ্য বিনা শুল্কে রফতানি করা যাবে। অন্যদিকে, ইউরোপের অন্য দেশগুলির পণ্য আমদানির ক্ষেত্রেও শুল্কহ্রাস করবে দিল্লি। এই চুক্তির ফলে বিশ্বে রফতানি যোগ্য ২৫ শতাংশ পণ্যে কোনও শুল্ক আরোপ হচ্ছে না। এর ফলে উপকৃত হবেন ভারত ও ইউরোপের মোট ১৯০ কোটি ক্রেতা। মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি কার্যকর হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলির ৯৬.৬ শতাংশ পণ্য বিনা শুল্কে ভারতে ঢুকতে পারবে। এর ফলে ভারতের বাজারে ইউরোপের পণ্যগুলির দাম কমবে। অপরদিকে ইউরোপের বাজারেও ভারতীয় পণ্যের দাম কমবে।
সূত্রের খবর, গাড়ি শিল্প খাতে এই চুক্তির প্রভাব সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে ইউরোপ থেকে আমদানি করা প্রিমিয়াম গাড়ির উপর ভারতের কার্যকর শুল্ক প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছিল। নতুন চুক্তি অনুযায়ী, এই শুল্ক কমিয়ে ১০ শতাংশে নামানো হবে।
বিমান ও মহাকাশ ক্ষেত্রেও বড়সড় পরিবর্তন হতে চলেছে। কারণ ইউরোপ থেকে আমদানি করা বিমান ও মহাকাশ সংক্রান্ত প্রায় সব ধরনের পণ্যের উপর শুল্ক প্রায় পুরোপুরি তুলে নেওয়া হবে। ফলে বেসামরিক বিমান পরিবহণ শিল্পে খরচ কমবে এবং ভবিষ্যতে উড়ান পরিষেবা আরও সাশ্রয়ী হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
চুক্তির ফলে ইউরোপ থেকে আসা পণ্য ভারতের বাজারে সস্তা হতে পারে। জানা যাচ্ছে, ওয়াইন,স্পিরিটস, বিয়ার অলিভ অয়েল, মার্জারিন ও অন্যান্য ভেজিটেবল অয়েল
কিউয়ি,ন্যাশপতি, প্রসেস ফুড, সসেজ, মাংসজাত প্রস্তুত খাবার, এছাড়াও ফলের রস, নন অ্যালকোহলিক বিয়ার, এসবের দাম কমবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের বক্তব্য অনুযায়ী, এই চুক্তি ভারতের বাজারকে ইউরোপীয় রফতানিকারকদের জন্য এতটাই খুলে দিল যা আগে কখনও হয়নি। অন্যদিকে ভারতের জন্য এটি একদিকে যেমন উপভোক্তাদের জন্য সুখবর, তেমনই দেশীয় শিল্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জও বটে। বিশেষ করে অটো, যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক এবং মেডিক্যাল যন্ত্রপাতি নির্মাণ শিল্পে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতা অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে। এগুলিতে ভারতীয় সংস্থাগুলিকে এখনই নিজেদের প্রযুক্তি, মান ও উৎপাদন খরচের দিকে নতুন করে নজর দিতে হবে।
