ওঙ্কার ডেস্ক: দু বছর আগে বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন শেখ হাসিনা। চলতি সপ্তাহে বুধবার বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নয়াদিল্লিতে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ভার্চুয়ালি মতবিনিময় করতে চলেছেন। যা তাঁর দেশ ত্যাগের পর প্রথম। এ নিয়ে চর্চা শুরু হতে নয়াদিল্লির তরফে স্পষ্ট জানানো হল, হাসিনার এই আয়োজনের পরিকল্পনার সঙ্গে ভারতের কোনও সম্পর্ক নেই। মঙ্গলবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
ভারতে বসে হাসিনার এই কর্মসূচি কেন, এ বিষয়ে সোমবার ঢাকার তরফে ভারতের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল। তারেক রহমানের বিদেশ মন্ত্রকের উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কে ইতিবাচক গতি দেখা গেছে, ভারতের মাটি থেকে এই পরিকল্পিত প্রকাশ্য মতবিনিময় সেই গোটা বিষয়টির উপর প্রভাব ফেলতে পারে। মঙ্গলবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘আপনারা যে মতবিনিময়ের কথা বলছেন, তা একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যম সংস্থা আয়োজন করছে। এতে সরকারের কোনও যোগ নেই। এই ফোরামে কোনও মত প্রকাশ করা হলে ভারত তা সমর্থনও করে না।’ ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে আয়োজিত এই ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে হাসিনা বক্তব্য রাখবেন বলে আওয়ামী লীগ সূত্রে খবর। এই কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখবেন হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও সাকিব আল হাসান-সহ আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা।
উল্লেখ্য, ছাত্র জনতার বিক্ষোভের মুখে পড়ে ২০২৪ সালে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়েন। ৭৮ বছর বয়সী আওয়ামী লীগের নেত্রী ভারতে আশ্রয় নেন। গত নভেম্বরে ঢাকার একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে ছাত্র বিক্ষোভে নৃশংস অভিযান চালানোর কারণে। ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’-এর অভিযোগ আনা হয়েছে হাসিনার বিরুদ্ধে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই রায়ের পর থেকেই ঢাকা নয়াদিল্লির কাছে তাঁকে ফেরত পাঠানোর আর্জি জানিয়ে আসছে।