ভারতের তরফ থেকে ভূমিকম্প বিধ্বস্ত আফগানিস্তানে পাঠানো ২১ টন ত্রাণসামগ্রী। মঙ্গলবার এই খবর জানালেন বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর। জয়শঙ্কর সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, “ভারতের ভূমিকম্প ত্রাণসামগ্রী কাবুলে পৌঁছে গেছে। বিমানযোগে ২১ টন সামগ্রী পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কম্বল, তাঁবু, হাইজিন কিট, রান্নার সরঞ্জাম, জল সংরক্ষণের ট্যাঙ্ক, জেনারেটর, পোর্টেবল ওয়াটার পিউরিফায়ার, স্লিপিং ব্যাগ, ওষুধ, হুইলচেয়ার, স্যানিটাইজার, ওআরএস, জল পরিশোধনের ট্যাবলেট এবং চিকিৎসা সামগ্রী”।
বিদেশমন্ত্র আরও জানিয়েছেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ভবিষ্যতেও সাহায্য পাঠানো হবে। আফগানিস্তানে মানবিক সঙ্কট মোকাবিলায় ভারত অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় প্রতেবেশির পাশে দাঁড়িয়ে সে নিয়ে নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় পোষ্ট দেন তিনি।
উল্লেখ্য, রবিবার গভীর রাতে পূর্ব আফগানিস্তানে ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে জনজীবন। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৬.৩। সরকারি হিসাবে, এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যেই বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৪১১ জনে। জখম হয়েছেন প্রায় ৩,০০০ মানুষ। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কুনার প্রদেশে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সড়ক ভেঙে পড়ায় এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
জাতিসংঘের মানবিক ত্রাণ বিষয়ক দফতর জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল নঙ্গরহার প্রদেশের কামা জেলা, যা পাকিস্তান সীমান্তের একেবারে কাছেই অবস্থিত। সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানের কিছু অঞ্চলেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
এদিকে, মূল ভূমিকম্পের পর একের পর এক আফটারশক (মাত্রা ৪ থেকে ৫) উদ্ধারকাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্ঘটনা কবলিত এলাকায় এখনও বহু মানুষ আটকে রয়েছেন। কুনার, লঘমান, নঙ্গরহার এবং নুরিস্তান, এই চারটি প্রদেশে অন্তত ১২,০০০ মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে ধারণা। বহু বাড়িঘর ধসে গিয়েছে, ধ্বংস হয়েছে অবকাঠামোও।
পরিস্থিতি সামাল দিতে আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলির পাশাপাশি ভারতও দ্রুত উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যেই ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছে নয়াদিল্লি।
