ওঙ্কার ডেস্ক: ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় আরও এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক যুক্ত হল অগ্নি-৫ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের মাধ্যমে। ওড়িশার উপকূলবর্তী ডক্টর এপিজে আবদুল কালাম দ্বীপ থেকে এই দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই পরীক্ষায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ভারতের সামরিক শক্তিকে আরও সুসংহত করল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সফল উৎক্ষেপণ দেশের কৌশলগত প্রতিরোধ ক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তুলবে।
অগ্নি-৫ ভারতের অন্যতম আধুনিক আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, যার পাল্লা প্রায় ৫,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি। এই ক্ষেপণাস্ত্রের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল এমআইআরভি প্রযুক্তির সংযোজন, অর্থাৎ একটি মাত্র ক্ষেপণাস্ত্র থেকে একাধিক পৃথক লক্ষ্যবস্তুতে আলাদা আলাদাভাবে আঘাত হানা সম্ভব। এর ফলে শত্রুপক্ষের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি বা প্রতিরক্ষা কাঠামোকে একইসঙ্গে লক্ষ্যবস্তু করা যায়। এই প্রযুক্তি ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে নতুন স্তরে উন্নীত করেছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা। পরীক্ষার সময় ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ, গতি এবং নির্ভুলতা পর্যবেক্ষণের জন্য অত্যাধুনিক রাডার, ট্র্যাকিং সিস্টেম ও সমুদ্রভিত্তিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, উৎক্ষেপণের সমস্ত নির্ধারিত লক্ষ্য সফলভাবে পূরণ হয়েছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র নির্ভুলভাবে লক্ষ্যভেদ করেছে। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে, ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি এই অস্ত্রব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সমানতালে এগোচ্ছে।
প্রতিরক্ষা মহলে এই সাফল্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, বিশ্বের মাত্র কয়েকটি দেশ এই ধরনের উন্নত এমআইআরভি প্রযুক্তির অধিকারী। ভারতের এই অগ্রগতি শুধু সামরিক শক্তির প্রদর্শন নয়, বরং আন্তর্জাতিক কৌশলগত পরিসরেও দেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। বিশেষত আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও প্রতিবেশী শক্তিধর দেশগুলির প্রেক্ষাপটে এই সাফল্য ভারতের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও দৃঢ় করবে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এই সফল পরীক্ষার জন্য ডিআরডিও-র বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী এবং সংশ্লিষ্ট সেনা কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এটি আত্মনির্ভর ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত এই ক্ষেপণাস্ত্র ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।