ওঙ্কার ডেস্ক: তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেন জনপ্রিয় অভিনেতা ও তামিলাগা ভেট্রি কাঝাগম প্রধান বিজয়। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর দল উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেলেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে সরকার গঠনের জন্য নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরপরই শুরু হয় জোর রাজনৈতিক তৎপরতা। মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকই বদলে দেয় রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ এবং বিজয়কে মুখ্যমন্ত্রীর আসনের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর টিভিকে বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন সংখ্যায় কিছুটা পিছিয়ে ছিল। এই অবস্থায় প্রথমেই রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সরকার গঠনের ইচ্ছাপ্রকাশ করেন বিজয়। তবে প্রয়োজনীয় সমর্থনের স্পষ্ট প্রমাণ চাওয়ায় চাপ আরও বাড়ে। এরপরই শুরু হয় সম্ভাব্য মিত্রদের সঙ্গে নিবিড় আলোচনা। কংগ্রেস, বাম দল, ভিসিকে এবং কয়েকজন নির্দল বিধায়কের সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়।
প্রথম বৈঠকে জোটের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। দ্বিতীয় বৈঠকে সরকারে অংশীদারিত্ব, নীতি এবং মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব নিয়ে সমঝোতার পথ তৈরি হয়। তৃতীয় বৈঠকে সমর্থনের চূড়ান্ত কাঠামো গড়ে ওঠে এবং চতুর্থ বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে জোটের রূপরেখা স্থির হয়। এই ধারাবাহিক আলোচনার ফলেই বিজয় প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে সক্ষম হন।
দীর্ঘদিন ধরে ডিএমকে এবং এআইডিএমকা-র মধ্যে সীমাবদ্ধ তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বিজয়ের এই উত্থান এক বড় পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। চলচ্চিত্র জগতের জনপ্রিয়তা, তরুণ ভোটারদের বিপুল সমর্থন এবং পরিবর্তনের বার্তাকে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করে তিনি দ্রুত নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বিকল্প নেতৃত্ব হিসেবে।
রাজ্যপালের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণের পর শপথ গ্রহণের মাধ্যমে বিজয় তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তাঁর এই উত্থান শুধু একজন অভিনেতার রাজনৈতিক সাফল্যের গল্প নয়, বরং রাজ্যের ভোটারদের নতুন নেতৃত্বের প্রতি আস্থারও প্রতিফলন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পাঁচ দিনের এই কৌশলী আলোচনা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণই বিজয়ের সরকার গঠনের সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি হয়ে উঠেছে। নতুন সরকারের সামনে এখন প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ এবং জনআকাঙ্ক্ষা রক্ষার বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।