ওঙ্কার ডেস্ক: ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার তৃতীয় ও শেষ একদিনের ম্যাচটি এখন সবার নজরে। সিরিজের প্রথম ম্যাচে ভারত জিতেছিল এবং দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার দারুণ জয়ে হিসেব সমান হয়ে যায়। তাই বিশাখাপট্টনমে হওয়া এই ম্যাচেই ঠিক হবে কে জিতবে সিরিজ। ৬ ডিসেম্বর, শুক্রবার এসিএ-ভিডিসিএ আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে হাজারো দর্শক উপস্থিত থাকবে ম্যাচ দেখার অপেক্ষায়।
বিশাখাপট্টনমে পিচ সাধারণত ব্যাটসম্যানদের জন্য ভালো। প্রথম দিকে বল কিছুটা সুইং করতে পারে, কিন্তু কয়েক ওভার কেটে গেলে ব্যাটসম্যানরা সহজেই রান তুলতে পারেন। সন্ধ্যার দিকে শিশির পড়ার সম্ভাবনা থাকে, যার ফলে বোলারদের জন্য বল হাতে গ্রিপ কমে যায়। তাই যেই দল টস জিতবে, তারা হয়তো আগে রান করতেই চাইবে।
এই ম্যাচে ভারতের জন্য বড় ভরসা বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মা। আগের দুই ম্যাচেই তাদের ব্যাট ধারাবাহিকতা দেখিয়েছে। এছাড়া শুভমন গিল, শ্রেয়স আইয়ার এবং লোকেশ রাহুলও ভালো ছন্দে আছেন। তবে মিডল অর্ডারকে আরও দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে, কারণ আগের ম্যাচে মাঝের ওভারে উইকেট পড়ে দল চাপের মুখে পড়েছিল।
বল হাতে ভারতের চ্যালেঞ্জ আরও বড়। জাসপ্রিত বুমরাহ এবং মোহাম্মদ শামি দুজনেই অভিজ্ঞ, কিন্তু আগের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানেরা তাদের সহজেই সামলেছে। স্পিনারদের মধ্যেও ধারাবাহিক চাপ তৈরি করার দায়িত্ব থাকবে। বিশেষত গুরুত্বপূর্ণ ওভারে রান আটকানো এবং উইকেট তোলাই পার্থক্য গড়তে পারে।
এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বিতীয় ম্যাচের আত্মবিশ্বাস নিয়েই খেলতে নামবে। তাদের ওপেনাররা ভালো শুরু দিচ্ছেন। মিডল অর্ডারও দলের হয়ে দায়িত্ব নিচ্ছে। এছাড়া শেষের দিকে রান তোলা এবং চাপের সময় ঠাণ্ডা মাথায় ব্যাট করা তাদের বড় শক্তি। বোলিংয়েও তারা পরিকল্পনা করে বোলিং করেছে এবং সংযম দেখিয়েছে। দক্ষিন আফ্রিকার দল সঠিক সময়ে উইকেট তুলেছে এবং ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের অস্বস্তিতে ফেলতে পেরেছে।
দুই দলের শক্তি প্রায় সমান। তাই ম্যাচে ছোট ছোট ভুলও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। রানআউট, ক্যাচ ফেলা বা ভুল সিদ্ধান্ত এসবই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে। বিশেষত বড় ম্যাচে চাপ সামলানো খুব গুরুত্বপূর্ণ।
সিরিজের শেষ ম্যাচ বলেই চাপ থাকবে দুই দলের ওপরই। ভারত চাইবে নিজেদের মাঠে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা এই জয়কে মানসিক শক্তির ভিত্তি হিসেবে নিতে চাইবে। ক্রিকেট প্রেমীদের মতে ম্যাচটি হবে উত্তেজনায় ভরা। ব্যাট-বলে লড়াই হবে সমানভাবে। দর্শকরাও উপভোগ করবেন রোমাঞ্চকর মুহূর্ত। শেষ পর্যন্ত যে দল পরিকল্পনা ঠিকঠাক বাস্তবায়ন করতে পারবে, সেদিকে নজর প্রত্যেকের।
