ওঙ্কার ডেস্ক: স্ত্রীর পরিবারের কাছে দুই লক্ষ টাকা এবং একটি গাড়ির দাবি করেছিল উত্তর প্রদেশের রামপুর জেলার সঞ্জু নামের এক যুবক। সেই দাবি মেটাতে না পারায় নিজের আট মাসের সন্তানকে পায়ের দিক ধরে উল্টো করে ঝুলিয়ে গ্রামের চৌরাস্তার চার বার ঘোরানোর অভিযোগ করে তাঁর স্ত্রী।
সুত্রের খবর, সঞ্জু নামের ঐ যুবকের সঙ্গে ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে বিয়ে হয় সুমন নামের এক মহিলার। বিয়ের পর থেকেই সুমনের পরিবারের উপর দুই লক্ষ টাকা এবং একটি গাড়ির চাপ দিতে থাকে সঞ্জুর পরিবার। পণ সংক্রান্ত বিষয়ে সুমনের উপর চলত শারীরিক অত্যাচারও। সঞ্জুর দাদা ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এনেছে সুমন নিজে। নির্যাযতিতার মা বলেছেন, “পণের কারনে পরিবারের সকলে মিলে আমায় মাড়ধোর করত। জা, দেওর সকলেই মারত”।
নিজের সন্তান উপর হওয়া নির্যাতন প্রসঙ্গে সুমন জানান, “এতদিন আমার উপর অত্যাচার হত মেনে নিয়েছি, কিন্তু এখন তো বাচ্ছার উপরেও শুরু করেছে। নিজের বাচ্ছাকে উল্টো করে ঝুলিয়ে গ্রামের রাস্তায় চার বার ঘুরিয়েছে। সে এখন গুরতর অসুস্থ”। তিনি আরও জানান, “সঞ্জু নিজে ভিডিও করতে বলে, ভিডিও করতে করতে টাকা দেওয়ার কথা বলতে থাকে”। সুমন জানায় তাঁদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। একথা সে বারবাএ সঞ্জু ও তার পরবারকে জানালেও পরিবারের কোনো রকম মত পরিবর্তন হয়নি। নির্যাতিতার মা স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছে। তিনি সঞ্জুর সঙ্গে পুরো পরিবারকে জেলে পাঠাতে চান।
উল্লেখ্য ঘটনা প্রসঙ্গে মিলক খানম থানার ইনচার্জ নিশা খাতানা জানিয়েছেন, ঐ ব্যাক্তি সঞ্জুর নামে ১৮১ ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। আপাতত তাকে কাউন্সেলিং সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তের মানসিক অবস্থা নিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
বাচ্ছাটি এখন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পণ নেওয়া, নারী নির্যাতন এবং শিশু নির্যাতনের জন্য সরব হয়েছেন বিভিন্ন সমাজকর্মীরা। তাঁরা সঞ্জুর দ্রুত এবং কঠোর শাস্তির দাবি করেছে।
