ওঙ্কার ডেস্ক : প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়েছে বলে যাঁকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি ও পাড়ায় লাগাতার কুৎসা রটানো হয়েছিল, শেষমেশ সেই বৌমার পচাগলা দেহ উদ্ধার হল শ্বশুরবাড়ির সামনের রাস্তায় মাটির ১০ ফুট গভীর থেকে। ঘটনাটি ঘটেছে হরিয়ানার ফরিদাবাদে। মৃত তরুণীর নাম তনু। এই ঘটনায় তনুর স্বামী অরুণ, শ্বশুর, শাশুড়ি এবং শ্বশুরবাড়ির এক আত্মীয়কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তনু উত্তরপ্রদেশের শিকোহাবাদের বাসিন্দা ছিলেন। ২০২৩ সালে তাঁর বিয়ে হয় ফরিদাবাদের রোশননগরের বাসিন্দা অরুণের সঙ্গে। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে মানসিক ও শারীরিক অত্যাচারের শিকার হতে থাকেন তনু। তাঁর বোন প্রীতির দাবি, সোনার গয়না ও নগদ টাকার জন্য নিয়মিত চাহিদা জানাতেন অরুণ ও তাঁর বাবা-মা। বোনের শান্তির জন্য পরিবার সেই চাহিদাও পূরণ করেছিল একাধিকবার। তবুও তনুর উপর নির্যাতন বন্ধ হয়নি। চরম পরিস্থিতিতে বিয়ের এক মাসের মধ্যেই তনু বাপের বাড়িতে ফিরে যান এবং প্রায় এক বছর সেখানেই থাকেন। পরে দুই পরিবারের আলোচনার ভিত্তিতে তনু ফের শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যান। কিন্তু পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের।
চলতি বছরের ৯ এপ্রিল থেকে তনুর সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বারবার ফোন করেও কোনও সাড়া পাননি পরিবারের সদস্যরা। এরপর পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হলেও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি স্থানীয় থানা, এমনটাই অভিযোগ প্রীতির। ২৩ এপ্রিল তনুর স্বামী অরুণের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তনু প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়েছে। সেই খবর রটে পড়শিদের মধ্যে। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহ হয়, কারণ এপ্রিল মাসেই অরুণের বাবাকে বাড়ির সামনের রাস্তা খুঁড়তে দেখেছিলেন তাঁরা। তাঁর দাবি ছিল নোংরা জল জমছিল বলেই রাস্তা খোঁড়া হয়েছে। কিন্তু এরপর তা হঠাৎ করেই সিমেন্ট দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। এতে সন্দেহ আরও গাঢ় হয়।প্রতিবেশীরা বিষয়টি পুলিশকে জানালে ফের রাস্তা খোঁড়া হয়। আর সেখানেই মিলেছে তনুর পচাগলা দেহ।
নৃশংস এই ঘটনার পর নড়ে চড়ে বসেছে পুলিশ প্রশাসন। তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। তনুর পরিবারের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত খুন। তাঁরা দোষীদের কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
