ওঙ্কার ডেস্ক: সংসদের নতুন অধিবেশন শুরু হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। তার আগে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে নানা ইস্যুতে একযোগে আক্রমণ শানানোর ছক কষছে বিরোধী ইন্ডিয়া জোট। লোকসভা ভোটের ফলাফলের ধাক্কা কাটিয়ে জোটের শরিকরা আবার এক টেবিলে বসছে, ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন থেকে শুরু করে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালিদের হেনস্থা, ‘অপারেশন সিঁদুর’নিয়ে কেন্দ্রকে কোণঠাসা করার কৌশলই ছিল এ বৈঠকের মূল এজেন্ডা। কিন্তু সেই লক্ষ্যপূরণের আগেই ইন্ডিয়া জোটের অন্দরে বেজে উঠল অন্তর্কলহের সুর। আর সেই সুরের উৎস স্বয়ং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। শনিবার কেরলের কোট্টায়ামের জনসভায় গিয়ে রাহুল যা বললেন, তা কার্যত ইন্ডিয়া জোটের অন্যতম বড় শরিক সিপিএমকে সরাসরি আক্রমণ।
রাহুলের স্পষ্ট বক্তব্য, সিপিএম আর আরএসএস আদতে আলাদা কিছু নয়! তাঁর কথায়, ‘‘আমি আরএসএস আর সিপিএম দুই মতাদর্শের বিরোধিতা করছি। ওদের সাধারন মানুষের প্রতি কোনও সহানুভূতি নেই। যতই বড় বড় কথা বলুন, যদি মানুষের জন্য মমতা না থাকে, কাউকে কাছে টেনে নেওয়ার মতো হৃদয় না থাকে, তাহলে নেতা হওয়া যায় না”।
রাহুলের এ মন্তব্যে ক্ষুব্ধ সিপিএম । এক লিখিত বিবৃতিতে সিপিএম জানিয়েছে, ‘‘আরএসএস আর সিপিএমের তুলনা টেনে রাহুল গান্ধী ,হাস্যকর ও নিন্দনীয় কথা বলেছেন। কেরলে আরএসএসের বিরুদ্ধে প্রকৃত লড়াইটা করছে কে? সিপিএমের বহু কর্মী গেরুয়া সন্ত্রাস রুখতে গিয়ে শহিদ হয়েছেন। অথচ কেরলে কংগ্রেস আর আরএসএসই বরং এক সুরে কথা বলে, একসঙ্গে কমিউনিস্ট বিরোধিতা করে”।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কেরলে বামফ্রন্ট আর কংগ্রেস যে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী, তা নতুন কিছু নয়। লোকসভা ভোটে একসঙ্গে লড়াই করা হলেও রাজ্যে সিপিএমের সঙ্গে কংগ্রেসের সম্পর্ক বরাবরই ঠাণ্ডা-গরম। সেই রেষ যে জাতীয় মঞ্চেও প্রভাব ফেলছে, তা স্পষ্ট রাহুলের কথায়।
এ নিয়ে কংগ্রেস অনান্য নেতৃত্ব প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও, সিপিএম নেতারা স্পষ্টতই বার্তা দিতে শুরু করেছেন। ভার্চুয়াল বৈঠকে সিপিএমের তরফে উপস্থিত ছিলেন এমএ বেবি। তবে সেই মঞ্চেই সিপিআইএম নেতা ডি রাজা নাম না করে সতর্ক করেছেন রাহুলকে “সমালোচনারও সীমা থাকা উচিত। এই ধরনের মন্তব্যে ভুল বার্তা যায়”।
এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে জোটের বড় মাথা তথা কংগ্রেসের প্রধান মুখ যদি সিপিএমকে আরএসএসের সঙ্গে এক আসনে বসান, তবে সংসদে বিরোধী জোটের সমন্বয় কীভাবে বজায় থাকবে? জোড়দার শাসক দল শাষক দলকে চাপে রাখতে যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেটাই এখনে ব্যাপক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অন্য দিকে, রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্য কংগ্রেসের কেরল রাজনীতিতেও একটা বিস্ফোরক বার্তা হয়ে উঠছে। কারণ কেরলে বামফ্রন্টই তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। তাই স্থানীয় রাজনীতির খাতিরে সিপিএমকে আক্রমণ অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু জাতীয় স্তরে যেখানে বিজেপি-বিরোধী শক্তি এককাট্টা হওয়ার চেষ্টা করছে, সেখানে এমন মন্তব্য বিরোধী ঐক্যকেই দুর্বল করে, মত বিশেষজ্ঞদের।এই প্রেক্ষপটে আবার সেই পুরানো প্রশ্ন মাথানাড়া দিয়ে উঠছে, তাহলে কি আবার ভাঙ্গবে বিরোধী শিবিরের জোট?
