ওঙ্কার ডেস্ক: মহাকাশ জয় করে অবশেষে ঘরে ফিরলেন ভারতের গর্ব, গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লা। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পদচিহ্ন রাখা ভারতীয় নভোচর হিসেবে ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন তিনি। এর আগে মহাকাশে যাওয়া দ্বিতীয় ভারতীয় হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন এই বায়ুসেনা আধিকারিক। গত ১৫ জুলাই ‘অ্যাক্সিওম-৪ মিশন’ সম্পূর্ণ করে পৃথিবীতে ফেরেন শুভাংশু। তবে সেই সময় অবতরণ করেছিলেন আমেরিকায়। প্রায় এক মাস পর রবিবার ভোরে দিল্লির মাটিতে পা রাখলেন তিনি।
রাজধানীর ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিল মানুষের ঢল। জাতীয় পতাকা হাতে ভিড় জমিয়েছিলেন সাধারণ মানুষ। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি বিমানবন্দরে হাজির ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি। উৎসবমুখর এই অভ্যর্থনায় আবেগে ভেসে যান শুভাংশু। তিনি হাত নেড়ে কৃতজ্ঞতা জানান সমর্থন ও ভালোবাসায় ভরিয়ে দেওয়া মানুষদের।
দেশে ফেরার আগে বিমানে বসে আবেগঘন একটি বার্তা শেয়ার করেছিলেন এই মহাকাশচারী। নিজের পোস্টে লিখেছিলেন, “ভারতে ফেরার পথে আমার মনে হচ্ছে এখানকার মানুষদের বিদায় জানাতে কষ্ট লাগছে। গত এক বছর ধরে এরা আমার বন্ধু, পরিবারের মতো হয়ে উঠেছিল। তবে একই সঙ্গে আনন্দ হচ্ছে, কারণ অভিযানের পর প্রথমবার দেশে ফিরছি, প্রিয়জনদের সঙ্গে দেখা হবে। জীবন এমনই সবকিছু একসঙ্গে উপহার দেয়।” পোস্টের শেষে তিনি উল্লেখ করেছিলেন বলিউডের কালজয়ী সিনেমা ‘স্বদেশ’ এর জনপ্রিয় গান ‘ইউন হি চালা চল রহি, জীবন গাড়ি হ্যায় সময় পাহিয়া”।
সূত্রের খবর, রবিবারই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে শুভাংশুর। ভারতের মহাকাশ গবেষণার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও তাঁর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, ভারত বর্তমানে ‘গগনযান মিশন’-এর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ২০২৭ সালের মধ্যে ইসরো নিজস্ব প্রযুক্তিতে মানুষকে মহাকাশে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। সেই বৃহত্তর যাত্রারই অংশ হিসাবে শুভাংশু শুক্লা অংশ নিয়েছিলেন অ্যাক্সিওম-৪ অভিযানে এবং দেশের নাম সগর্বে তুলে ধরেছেন আন্তর্জাতিক মঞ্চে।
শুভাংশুর দেশে ফেরা শুধু একটি মহাকাশচারীর প্রত্যাবর্তন নয়, বরং গোটা জাতির জন্য এক অনন্য গর্বের মুহূর্ত। তাঁর এই সাফল্য নতুন প্রজন্মকে মহাকাশ গবেষণায় উৎসাহিত করবে এবং ভারতের স্বপ্ন ‘গগনযান মিশন’-এর ভিত্তিকে আরও দৃঢ় করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
