ওঙ্কার ডেস্ক: রাজ্য বিধানসভায় পাশ হওয়া বিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে রাষ্ট্রপতি ও রাজ্যপালদের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া উচিত কিনা, তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। গত মাসে রাষ্ট্রপতি ভবন নিজেই প্রশ্ন তোলে, শীর্ষ আদালত আদৌ রাষ্ট্রপতির কাজের সময়সীমা নির্ধারণ করতে পারে কিনা। এই বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে রাষ্ট্রপতি ভবনের তরফে প্রধান বিচারপতির কাছে ১২ দফা প্রশ্ন পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়, বিচারপতি বি আর গাভাই-সহ পাঁচ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ গঠন করেছেন।
শুনানির সময়ে বিচারপতি বি আর গাভাই সরাসরি প্রশ্ন তোলেন রাজ্যপালরা কি নির্বাচিত রাজ্য সরকারের উপরে অবস্থান করেন? নির্বাচিত সরকার কি রাজ্যপালের মর্জি অনুযায়ী চলতে বাধ্য? তাঁর পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট, আদালতও রাজ্যপালের সাংবিধানিক ভূমিকা নিয়ে সংশয়ে রয়েছে।
কেন্দ্রের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তিনি যুক্তি দেন, রাজ্যপালরা অনির্বাচিত প্রতিনিধি বলেই তাঁদের কেবলমাত্র নির্বাচিত সরকারের সিদ্ধান্ত অনুসরণে বাধ্য নন। বরং বিল খতিয়ে দেখা এবং সেটি কেন্দ্রীয় আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কিনা তা পরীক্ষা করাই তাঁদের সাংবিধানিক দায়িত্ব। প্রধান বিচারপতি তাতে পাল্টা জানতে চান, একজন রাজ্যপাল কতদিন ধরে কোনও বিল ঝুলিয়ে রাখতে পারেন? এই বিষয়ে কেন্দ্রের অবস্থান কী? কারণ বর্তমানে সংবিধানে এই বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও সময়সীমা নেই।
বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল তামিলনাড়ুতে। রাজ্যপাল আর এন রবি ডিএমকে সরকারের পাশ করানো অন্তত ১২টি বিল আটকে দেন। এর মধ্যে কয়েকটি আবার রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হলেও রাষ্ট্রপতি ভবনও তাতে সিদ্ধান্ত নেয়নি। তামিলনাড়ু সরকারের অভিযোগ, রাজ্যপাল ইচ্ছে করেই রাজ্য সরকারের কাজে অচলাবস্থা তৈরি করছেন। মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিন পর্যন্ত অভিযোগ করেছেন, রাজ্যপাল কার্যত নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন।
এখন মূল প্রশ্ন হল, সুপ্রিম কোর্ট কি রাষ্ট্রপতির মতো সাংবিধানিক পদাধিকারীর কাজের সীমা নির্ধারণে হস্তক্ষেপ করতে পারে? আদালত যদি রাজ্যপালের জন্য সময়সীমা বেঁধে দেয়, তবে কি একই নিয়ম রাষ্ট্রপতির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে? রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক মহলের মতে, এই মামলার রায় ভবিষ্যতে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের সমীকরণে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
