ওঙ্কার ডেস্ক: ভারতীয় সেনাবাহিনীতে অনুকরণীয় সাহসিকতা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও বিশিষ্ট সেবার স্বীকৃতি প্রদানের উদ্দেশ্যে পূর্ব কমান্ডের বার্ষিক সমাপ্তি অনুষ্ঠান ২০২৬ মেঘালয়ের উমরোই মিলিটারি স্টেশনে অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর বীর সৈনিকদের সাহসিকতা ও ত্যাগকে সম্মান জানানো হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাম চন্দ্র তিওয়ারি, পিভিএসএম, ইউওয়াইএসএম, এভিএসএম, এসএম, জেনারেল অফিসার কমান্ডিং-ইন-চিফ (জিওসি-ইন-সি), পূর্ব কমান্ড। তাঁর উপস্থিতিতে সেনাবাহিনীর সাহসী সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বীরত্ব ও বিশিষ্ট সেবার সম্মাননা।
এবছর মোট ৩৭টি বীরত্ব ও বিশিষ্ট সেবা পদক প্রদান করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—
• ১৯টি সেনা পদক (বীরত্ব)
• ৭টি সেনা পদক (বিশিষ্ট)
• ২টি যুদ্ধ সেবা পদক
• ১টি বার টু বিশিষ্ট সেবা পদক
• ৭টি বিশিষ্ট সেবা পদক এবং
• ১টি উত্তম জীবন রক্ষা পদক।
এই সম্মাননাগুলি দেশের সুরক্ষা রক্ষায় অসামান্য সাহসিকতা ও কর্তব্যনিষ্ঠার স্বীকৃতিস্বরূপ প্রদান করা হয়।
শুধু ব্যক্তি নয়, বিভিন্ন সামরিক ইউনিটের অসাধারণ পেশাদারিত্ব ও সাফল্যকেও এদিন বিশেষভাবে সম্মান জানানো হয়। ৪৯টি ইউনিট এবং কলকাতার আর্মি পাবলিক স্কুলকে তাদের ব্যতিক্রমী কর্মদক্ষতা, পেশাগত উৎকর্ষতা এবং উল্লেখযোগ্য কৃতিত্বের জন্য জেনারেল অফিসার কমান্ডিং-ইন-চিফ, ইস্টার্ন কমান্ড ইউনিট প্রশংসাপত্র প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বীর নারী ও পুরস্কারপ্রাপ্ত সৈনিকদের পরিবার-পরিজনেরা।
সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাম চন্দ্র তিওয়ারি পুরস্কারপ্রাপ্ত সকল সেনাসদস্যকে তাঁদের অনুকরণীয় সেবার জন্য অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ভারতীয় সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ ঐতিহ্য, মূল্যবোধ ও নীতিমালা বজায় রাখা প্রতিটি সেনাসদস্যের কর্তব্য। দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় তাঁদের অবদান জাতি চিরদিন স্মরণ করবে।
উল্লেখ্য, পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের প্রাক্কালে ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে **“শৌর্য সন্ধ্যা”** শীর্ষক এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরা হয় এবং সাহস ও ত্যাগের চেতনাকে শিল্পের মাধ্যমে উদযাপন করা হয়। এটি শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিক সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি ভারতীয় সেনাবাহিনীর শৌর্য, ত্যাগ ও কর্তব্যবোধের এক উজ্জ্বল প্রতিফলন। জাতির নিরাপত্তায় আত্মনিয়োগকারী বীর সেনানীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটে।
