কুশল চক্রবর্তী
২০২৫-এর ৮ নভেম্বর সংবাদ মাধ্যমে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠল ভারতের ক্লাব ফুটবলের সর্বচ্চ প্রতিযোগিতা আইএসএল নিয়ে অনিশ্চয়তার খবর। টানা পোড়েন চলছিল অক্টোবরের ১৬ তারিখ থেকেই। ওই দিনই শুরু হয়েছিল আগামী দিনে এই প্রতিযোগিতা পরিচালনার দায়িত্ব নেবার বিড। কিন্তু দেখা গেল যে ৭ নভেম্বরের শেষ দিনে এসেও তাতে কোনও সাড়া পাওয়া গেল না। গতবছর যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল ১৩ সেপ্টেম্বর, এবার নভেম্বরেও তার মহরৎও হল না।
২০১০ সাল থেকে এসএফডিএল, যারা কিনা রিলায়েন্স আর জিও স্পোর্টের প্রতিনিধি দ্বারা পরিচালিত এই লীগে ২০২৫-এর ২৫ ডিসেম্বরের পর তারা যে আর থাকবে না, তা তো এ আইএফএফ এর জানাই ছিল। তবুও কেন যে ভারতীয় ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা এআইএফএফ এত দেরী করে ময়দানে নেমেছিল তা বোঝা দুষ্কর ছিল। কিন্তু মজাটা রয়েছে অন্য জায়গায়। যে এসএফডিএল দশ বছর ধরে এই প্রতিযোগিতা চালিয়ে ৫০০০ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে বলে সরে দাড়াতে চাইছিল, তারাই আবার ১০০ রকম প্রশ্ন তুলেছিল এই বিডের। আর সে প্রশ্নের উত্তর নাকি এআইএফএফ দিয়েও ছিল, তবু নাকি মন গলেনি এসএফডিএলের। কিন্তু এসএফ ডিএল ছাড়াও তো আরও সংস্থা এই লীগের সংগঠনের জন্য বিড দেবার খবরাখবর নিয়েছিল। কিন্তু তারা কেন শেষমেষ সরে গেল।
আসুন দেখা যাক, এই বিডে উৎসাহ দেখানো অন্য কোম্পানিগুলো কারা। প্রথম ধরা যাক এই বিডের জন্য উৎসাহ দেখিয়ে ছিল ফানকোড, যারা কিনা ড্রিম স্পোর্টস বলে একটা কোম্পানির অংশ। এই ফানকোড, যারা কিনা এখন বিশ্বের সেরা ফুটবল, ক্রিকেট থেকে গলফ প্রতিযোগিতা সম্প্রচার করার বরাত পাচ্ছে। সেই সঙ্গে এই কোম্পানি জড়িয়ে আছে খেলাধুলাকে জনপ্রিয় করা বা খেলাধুলাকে ভিত্তি করে ভ্রমণের বাবসার সঙ্গেও। তারা কেন স্টার স্পোর্টস বা সনি স্পোর্টসকে হারিয়ে এই স্বত্ব নিতে রাজি হলনা, এটাই ছিল অবাক হবার মত ব্যাপার। তাদের সরার মূল কারণ হচ্ছে, তাদের যে ব্যবসা তা ওতোপ্রত ভাবে জড়িত রিলায়েন্স গ্রুপের সঙ্গে। বুঝতেই পারছেন, তারা কি করে এফএসডিএলকে টপকে এই বিডে প্রবেশ করে। আরেকটা গ্রুপ হল পন্ডিচেরির “রাক” গ্রুপ যারা কিনা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালায়। তারা ১৫ বছর ধরে এই প্রতিযোগিতা চালানোর দায়িত্ব নিতে হয়ত দ্বিধায় পড়েছে। অন্য দিকে ইউরোপের দেশ মোনাকোর আরেকটি গোষ্ঠী যারা কিনা প্রাথমিক ভাবে উৎসাহ দেখিয়ে ছিল, তাদের এই কাজের অভিজ্ঞতা নিয়েই সংশয় ছিল। অতএব সেই “হাতে রইল পেনসিল”। এফএসডি এলের ছাড়া বলতে গেলে কোনও উপায়ই রইল না। এখন ভারতের ব্যবসায়িক জগতের উপর এই রিলায়েন্স গোষ্ঠীর এমনই প্রভাব যে তাদের চটিয়ে কারও পক্ষে কিছু করা মুশকিল। তবে কিছু লোক কিন্তু এআইএফএফের সমগ্র পরিকল্পনার উপর অবাস্তবতার ছায়া দেখছে। কেএমপিজিকে পার্টনার করে এআইএফএফ কী করল তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। আর যারা ব্যবসা বোঝে তারা বলছে, ১৫ বছর ধরে, বছরে ৩৭.৫ কোটি টাকা বা তার বেশি টাকা দিয়ে যারা এই প্রতিযোগিতা চালাবার জন্য আসবে তারা নিশ্চয়ই এআইএফএফকে এত স্বাধীনতা দিতে চাইবে না। উপায়ন্তর না দেখে এখন হয়ত এআইএফএফ আদালতের দ্বারস্থ হবার কথা ভাবছে। আইএসএলের ক্লাবগুলোও চেষ্টা করছে একটা সমাধানের উপায় বার করার কিন্তু এ আই এফ এফ কি তাদের অপরিণামদর্শিতার দায় থেকে মুক্ত হতে পারে ? জিয়াউদ্দিন থেকে অশোক ঘোষ যাঁরাই ভারতীয় ফুটবলের নিয়ামক সংস্থার পরিচলনার কাজ নিপুণ ভাবে সম্পন্ন করেছেন, তাঁরা বুঝিয়েছেন যে রাজনীতির অঙ্গুলি হেলনে শীর্ষ পদ পাওয়া যায় বটে, কিন্তু ভারতীয় ফুটবলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজটা করা বড়ই কঠিন হয়।
