ওঙ্কার ডেস্ক: এক পাকিস্তানি মহিলা অভিযোগ করে ন্যায়বিচারের আবেদন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে। তাঁর দাবি, ভারতীয় স্বামী তাঁকে পরিত্যাগ করেছেন এবং দিল্লিতে নতুন বিয়ের প্রস্তুতিও শুরু করেছেন। মহিলা জানান, ২০২০ সালে করাচিতে তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী তাঁকে ভারতে নিয়ে আসেন। কয়েক মাস জীবিকা নির্বাহের পর আচরণে পরিবর্তন আসে স্বামী এবং তাঁর পরিবারের। অভিযোগ, নানা অজুহাতে তাঁকে মানসিক চাপে রাখা হয় এবং শেষে ভিসা সংক্রান্ত সমস্যার কথা বলে পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়।
মহিলা জানান, যখন তিনি পাকিস্তানে ফিরে আসেন, তখন কিছুই স্বাভাবিক ছিল না। স্বামী যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং ফিরে আসার সুযোগও নষ্ট হয়ে যায়। তিনি আরও দাবি করেন, কয়েকবার স্বামীর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলেও প্রত্যুত্তর পাননি। ধীরে ধীরে জানতে পারেন, দিল্লিতে নতুন করে বিয়ের আয়োজন চলছে। এই খবর জানতে পেরে তিনি সামাজিক মাধ্যমে আবেদন করেন, এরপর প্রশাসনের দ্বারস্থ হন।
মধ্যপ্রদেশের একটি মধ্যস্থতাকারী পরিষদের কাছে অভিযোগ পৌঁছায়। সেখানে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, স্বামী এবং তাঁর সম্ভাব্য দ্বিতীয় স্ত্রীর উদ্দেশে নোটিশও জারি করা হয়। তবে পরবর্তী সময়ে পরিষদ মত দেয় যে বিষয়টি আন্তর্জাতিক ও আইনি সীমারেখায় জটিল, যেহেতু স্ত্রী ও স্বামী কেউই ভারতের নাগরিক নন। ফলে পাকিস্তানেই আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে বলে মন্তব্য করা হয়।
এদিকে মহিলা জানিয়েছেন, তাঁর স্বামীর সঙ্গে আইনগত সম্পর্ক এখনও বহাল রয়েছে। সে অবস্থায় অন্য বিয়ের আয়োজন বেআইনি। তাই ন্যায়বিচার প্রয়োজন। তিনি বলেছেন, তাঁর ঘটনাটি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত নয় ভবিষ্যতে আরও অনেক আন্তর্জাতিক বিয়ে ও সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। তাঁর বক্তব্য, ন্যায়বিচার না হলে বহু নারী আইনি ব্যবস্থা নিয়ে আস্থা হারাবেন।
মহিলার আবেদন প্রকাশ্যে আসতেই তা সামাজিক মাধ্যম এবং নারী অধিকার সংগঠনের আলোচনার কেন্দ্র হয়। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, বিবাহবিচ্ছেদ, নাগরিকত্ব, সবই এই ঘটনাকে আরও জটিল করে তুলেছে। এখন দেখার বিষয়, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
