ওঙ্কার ডেস্ক: ইন্ডিগো-র সাম্প্রতিক উড়ান বিপর্যয়ের পরে বিমান চলাচলে যে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে, তা সামাল দিতে বেসামরিক উড়ান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ অস্থায়ীভাবে কিছু নিয়ম শিথিল করেছে। বিশেষ করে পাইলটদের রাতের ডিউটি, বিশ্রাম এবং ফ্লাইটের পর পর দায়িত্ব সংক্রান্ত নতুন বিধিতে কিছু ছাড় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই সিদ্ধান্তকে তীব্রভাবে বিরোধিতা করেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইলট সংগঠন। তাদের অভিযোগ, একমাত্র ইন্ডিগো-কে সুবিধা দেওয়ার জন্যই নিয়ম পরিবর্তন করা হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধি আদৌ সমানভাবে কার্যকর হচ্ছে কি না।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পাইলটদের নির্দিষ্ট পরিমাণ বিশ্রাম বাধ্যতামূলক, রাতের ডিউটির সংখ্যা সীমিত এবং রাতের ফ্লাইটের পর ল্যান্ডিংয়ে কঠোর নির্দেশ ছিল। এই নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগেই প্রত্যেক সংস্থাকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছিল, যাতে তারা শ্রমশক্তির পরিকল্পনা ও ডিউটি তালিকা সঠিকভাবে তৈরি করতে পারে। কিন্তু পরিস্থিতি ঘোরতর হওয়ার পরেই ইন্ডিগো জানিয়েছিল যে তাদের পর্যাপ্ত পাইলট নেই। ফলে ব্যাপক উড়ান বাতিল, দেরি এবং যাত্রী দুর্ভোগ তৈরি হয়।
পাইলট সংগঠনের অভিযোগ, নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার কথা আগেই জানা ছিল। তারপরও ইন্ডিগো শীতকালে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়িয়েছে। পরে অজুহাত দেখিয়ে নিয়ম শিথিল করানোর চেষ্টা করেছে। সংগঠনের দাবি, এর ফলে শুধু পাইলট নয়, যাত্রীদের নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়ছে। ক্লান্ত অবস্থায় দায়িত্ব পালন করলে যে কোনও মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তারা অভিযোগ করেছে, প্রশাসন শুধুমাত্র এক সংস্থার সুবিধার দিকে নজর দিচ্ছে, অথচ নিরাপত্তা বিধি সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর থাকা উচিত।
অন্যদিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, নিয়ম শিথিল করা হয়েছে সাময়িকভাবে, যাতে ফ্লাইট চলাচল আংশিকভাবে স্বাভাবিক হয়। পাশাপাশি যাত্রীদের দুর্ভোগ কমানোর লক্ষ্যও রয়েছে। কিন্তু এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট নয় পাইলট সংগঠন। তাদের বক্তব্য, স্বল্পমেয়াদে সমস্যা সামাল দেওয়া গেলেও দীর্ঘমেয়াদে এর ফল মারাত্মক হতে পারে। বিমান ওড়ানোর সময় পাইলটের সতর্কতা, বিশ্রাম ও মানসিক স্থিরতা সবার আগে। সে জায়গায় কোনও সংস্থাকে সুবিধা দেওয়া মানে নিয়মের মূল উদ্দেশ্যকেই নষ্ট করা।
ইতিমধ্যেই বিমানবন্দরে বহু উড়ান বাতিল ও বিলম্বে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ জমেছে। দীর্ঘক্ষণ এয়ারপোর্টে অপেক্ষা করে কেউ ফিরেছেন, কেউ আবার নিজের সময়সীমা নষ্ট করেছেন। অন্য সংস্থাগুলির ক্ষেত্রেও একই নিয়ম কার্যকর থাকা অবস্থায় একত্র পক্ষকে আলাদা সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিস্তর বিতর্ক তৈরি করেছে।
শেষ পর্যন্ত এখন নজর ডিজিসিএ-র সিদ্ধান্তের দিকে। পাইলট সংগঠন দাবি করেছে অবিলম্বে ছাড় প্রত্যাহার করা হোক, এবং নিয়ম সবার জন্য সমানভাবে বলবৎ করা হোক। একই সঙ্গে তারা জানিয়েছেন, যদি ভবিষ্যতে নিয়ম শিথিলতার কারণে কোনও দুর্ঘটনা ঘটে, তার দায়ভার নীতিনির্ধারকদেরই নিতে হবে।
