ওঙ্কার ডেস্ক: পাক অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে)-এ ক্রমশ জটিল আকার নিচ্ছে খাদ্য ও ওষুধের সংকট। সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন এলাকায় খাদ্যশস্য, শিশুখাদ্য, দুধ, রান্নার তেল এবং অত্যাবশ্যক ওষুধের ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতির জেরে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
জানা গিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটায় পিওকে-র একাধিক এলাকায় খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রী পৌঁছানো কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। যে সামগ্রী অল্প পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে, তার দামও আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গিয়েছে। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলি। বহু হাসপাতালে জীবনরক্ষাকারী ওষুধ, স্যালাইন, অ্যান্টিবায়োটিক এবং অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিনের অসুস্থ রোগী, শিশু, গর্ভবতী মহিলা এবং প্রবীণদের চিকিৎসা পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ। অনেক রোগীকেই প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেয়ে চিকিৎসা ছাড়াই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি মোকাবিলার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে এখনও পর্যাপ্ত ত্রাণ বা বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। অনেক এলাকায় মানুষ খাদ্য ও ওষুধের সন্ধানে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছুটছেন। সংকট দীর্ঘায়িত হলে মানবিক পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পর্যবেক্ষকরা। দ্রুত সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা না গেলে খাদ্য নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের উপর গুরুতর প্রভাব পড়বে। দীর্ঘমেয়াদি সংকটের ফলে অপুষ্টি, সংক্রামক রোগের বিস্তার এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য, ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।