ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয়দের ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করতে হবে বলে এক সভায় দাবি তোলে সম্প্রতি নিহত যুবনেতা শরিফ ওসমান হাদির দল ইনক্লাব মঞ্চ। তারা আরও জানিয়ে দেয় এই বিষয়টিকে তৎপরতার সঙ্গে দেখতে হবে অন্তরবর্তী সরকারকে। এমনকি ইনক্লাব মঞ্চ ইউনূস সরকারকে ২৪ দিনের সময়সীমাও বেঁধে দেয়। আরও হুমকি দেয় যদি এই বিষয়টিকে গুরত্ব না দিলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যাবে হাদির দল। বিচারের জন্য দারস্থ হবে আন্তর্জাতিক আদালতে, জানিয়ে দিয়েছেন ইনক্লাব মঞ্চ।
২৮ ডিসেম্বর রবিবার রাতে বাংলাদেশে ওসমান হাদির মৃত্যুর ন্যায় বিচারের দাবিতে একটি সভার আয়োজন করেছিল হাদির দল ইনক্লাব মঞ্চ। সংগঠনের নেতাদের দাবি, তাদের নেতা শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার এখনও হয়নি, বরং তদন্ত প্রক্রিয়ায় গাফিলতি ও রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করছে। ইনকিলাব মঞ্চের অভিযোগ, শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যায় সরাসরি জড়িত ব্যক্তি ছাড়াও পরিকল্পনাকারী, মদতদাতা এবং অভিযুক্তদের পালাতে সাহায্যকারীদের এখনও আইনের আওতায় আনা হয়নি। তারা নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত সকলকে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে আন্দোলন আরও তীব্র হবে।
হাদির খুনের তদন্তের পাশাপাশি আরও দুটি দাবি তোলে ঐ দল। এই আন্দোলনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে আরও একটি স্পর্শকাতর দাবি। ইনকিলাব মঞ্চের দাবি, বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয় নাগরিকদের সমস্ত ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করতে হবে। হাদির দলের নেতারা মনে করছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত জরুরি। এই দাবিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এর ফলে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের উপর প্রভাব পড়তে পারে।
দলের আর একটি দাবি বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী সেখ হাসিনা এবং তাঁর দল আওয়ামী লিগের সদস্যদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা। ইনক্লাব মঞ্চ দাবি তোলে ভারত তাদের দেশের গুরতর দোষে অভিযুক্তদের নিজেদের দেশে রেখে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে ক্ষুন্ন করেছে। তাই তাঁরা দাবি তোলে দ্রুত আইনি পর্যালোচনায় সেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের বাকি সদস্যদের দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। আর এর দায়িত্ব নিতে হবে বর্তমান অন্তরবর্তী সরকারকে।
হাদির সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে হত্যাকাণ্ডের তদন্তে গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি অংশ বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে এবং প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করছে। সেই কারণে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও তোলা হয়েছে। ইনকিলাব মঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, তাদের দাবি মানা না হলে ভবিষ্যতে দেশজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবে তারা। এই পরিস্থিতিতে ঢাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আন্দোলন যে ধীরে ধীরে বৃহত্তর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিতর্কের দিকে এগোচ্ছে, তা নিয়ে মতামত তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশ জুড়ে।
