ওঙ্কার ডেস্ক: ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের বহু প্রতীক্ষিত বৈঠকের ঠিক আগে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোড়ন ফেলে দিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘোষণা। ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ফের শুরু করতে চলেছে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার কার্যক্রম যা ১৯৯২ সালের পর কার্যত বন্ধ ছিল। পেন্টাগনকে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, “অন্যান্য পরমাণু শক্তিধর দেশগুলির সমান ভিত্তিতে অবিলম্বে পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করতে।”
ট্রাম্পের এই নির্দেশের ফলে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনকে দীর্ঘদিনের নীতিগত বিরতি ভেঙে আবারও মাঠে নামতে হচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম তরফ থেকে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে স্পষ্ট রাশিয়া ও চীনের সাম্প্রতিক পরমাণু সক্ষমতা বৃদ্ধির জবাব হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, “অন্য দেশগুলি যখন নিজেদের পরমাণু অস্ত্রের ক্ষমতা বাড়াতে নিউক্লিয়ার পরীক্ষার পথে এগোচ্ছে, তখন যুক্তরাষ্ট্র আর নিষ্ক্রিয় থাকতে পারে না। এখনই সময় নিজেদের সামরিক সক্ষমতাকে সমান স্তরে নিয়ে যাওয়া প্রোয়োজন।”
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক রাজনীতির পরিমণ্ডলে নতুন করে পারমাণবিক প্রতিযোগিতার আশঙ্কা তৈরি করছে। কারণ, আমেরিকা ৩৩ বছর আগে পারমাণবিক বিস্ফোরণমূলক পরীক্ষা বন্ধ করে ‘পরমাণু পরীক্ষা নিষিদ্ধকরণ চুক্তি’-এর ভিত্তিতে। এখন আপাতত ট্রাম্প প্রশাসনের এই অবস্থান সেই চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
চিন বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের ঠিক আগে ট্রাম্পের এই ঘোষণা কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, একদিকে দুই দেশের বাণিজ্য ও প্রযুক্তি সংক্রান্ত সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা চলছিল, অন্যদিকে এই সামরিক ঘোষণা চীনের প্রতি একপ্রকার পরোক্ষ চাপ তৈরি করছে। ফলে বৈঠকের পরিবেশ আরও সংবেদনশীল হতে চলেছে।
অন্যদিকে, রাশিয়ার দিক থেকেও সম্প্রতি পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার খবর পাওয়া গিয়েছিল। ফলে, মার্কিন সিদ্ধান্তকে অনেকেই মোকাবিলায় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও শান্তি প্রতিষ্ঠা সংস্থাগুলি এর তীব্র বিরোধিতা করেছে। তাঁদের বক্তব্য, এই পদক্ষেপ নতুন করে আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে পারমানবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার পরিবেশ গড়ে তুলতে পারে, যা বিশ্বশান্তির পক্ষে বিপজ্জনক।
ওয়াশিংটন পোস্ট এবং রয়টার্সের রিপোর্টে জানানো হয়েছে, হোয়াইট হাউসের এই সিদ্ধান্তে পেন্টাগন অবিলম্বে গবেষণা, পরীক্ষাগার এবং নিউভাদা টেস্ট সাইটের প্রস্তুতি পর্যালোচনা শুরু করেছে। পাশাপাশি, পারমাণবিক অস্ত্র নীতিতে সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়েও বৈঠক ডাকা হয়েছে।
ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে আলোড়ন পরে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে আমেরিকার পরমানু শক্তি বৃদ্ধি গোটা বিশ্বের প্রতি সতর্কবার্তা। কারন পরমাণু শক্তিধর দেশ গুলির মধ্যে পরমাণু প্রতিযোগিতা আন্তর্জাতিক স্থিতাবস্থাকে আরও নড়বড়ে করে তুলতে পারে।
