ওঙ্কার ডেস্ক: ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের পর বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের পর এই প্রথম প্রকাশ্যে মুখ খুলে আরও কয়েকটি দেশকে হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত, ভেনেজুয়েলার পর মেক্সিকো, কলম্বিয়া ও কিউবাও মার্কিন নজরদারির তালিকায় রয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর হঠাৎ অভিযানে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। দীর্ঘদিন ধরেই মাদুরো সরকারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন, মাদক পাচারে মদত এবং গণতন্ত্র ধ্বংসের অভিযোগ তুলে আসছিল ওয়াশিংটন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এই অভিযান বলে দাবি মার্কিন প্রশাসনের। অভিযানের পর মাদুরোকে আটক করে আমেরিকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে খবর। ঘটনার পরপরই আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।
এই আবহেই ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বক্তব্যে বলেন, ভেনেজুয়েলা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। তাঁর দাবি, আমেরিকার নিরাপত্তা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং মাদক চক্র দমনের প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না। সেই সূত্রেই তিনি সতর্ক করেন, মেক্সিকো, কলম্বিয়া ও কিউবার মতো দেশগুলিও যদি একই পথে হাঁটে, তবে তাদের ক্ষেত্রেও কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পিছপা হবে না যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের মন্তব্যে পরবর্তী লক্ষ্য কারা হতে পারে, তা নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে। বিশেষ করে মেক্সিকো ও কলম্বিয়ার নাম উঠে আসায় লাতিন আমেরিকায় উদ্বেগ গভীর হয়েছে। মাদক পাচার ও সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই এই দুই দেশের সঙ্গে আমেরিকার টানাপোড়েন রয়েছে। কিউবার ক্ষেত্রে আবার পুরনো শীতল যুদ্ধের ছায়া ফিরে আসার আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে একাধিক দেশ কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। কিউবা সরাসরি এই অভিযানকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ বলে আখ্যা দিয়েছে। মেক্সিকো ও কলম্বিয়া আঞ্চলিক শান্তি ও সার্বভৌমত্বের উপর এই ধরনের হুমকিকে বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করেছে। একই সঙ্গে রাশিয়া, চিন এবং ইরানের মতো দেশও ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের নিন্দা করেছে।
