ওঙ্কার ডেস্ক: কড়া নিরাপত্তা ও কারচুপির আশঙ্কার আবহে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে সকাল থেকেই। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সকাল সাতটা বাজতেই ভোটকেন্দ্রগুলির সামনে দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে শহরাঞ্চলের পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকাতেও ভোটারদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে এই ভোটের আবহের মধ্যেই ছিল আশঙ্কার ছায়া, ভোট কারচুপি, কেন্দ্র দখল ও সহিংসতার সম্ভাবনা ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে উত্তেজনা স্পষ্ট। কোনদিকে মোড় নেবে নির্বাচনের ফলাফল তা নিয়ে উত্তেজনা দলছে দেশের রাজনৈতিক মহলে।
ভোটপর্ব শুরু হওয়ার পর বিএনপির মুখপাত্র তারেক রহমান দাবি করে বসেন, সুষ্ট এবং নিরোপেক্ষ ভাবে ভোট না হলে ফলাফল মানবে না বিএনপি। তারেকের দাবি, একাধিক কেন্দ্রে কিছুদল সমর্থিত ব্যক্তিরা প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেছে। ভোটারদের ভয় দেখানো এবং জোরপূর্বক ভোট দেওয়ানোর অভিযোগও সামনে এসেছে। বিরোধী নেতৃত্বের বক্তব্য, গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণই এই নির্বাচনের আসল চাবিকাঠি। তারা ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং প্রতিটি কেন্দ্রে নজরদারি চালানোর কথা জানিয়েছেন।
আরও অভিযোগ, ভোট শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই বিভিন্ন জেলা থেকে বিচ্ছিন্ন অশান্তির খবর সামনে আসে। কোথাও কোথাও বিরোধী দলের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। কয়েকটি এলাকায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা এবং হাতাহাতির খবরও পাওয়া যায়, যার জেরে সাময়িকভাবে ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখতে হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে আবার ভোট শুরু হয়। কিছু স্থানে সাংবাদিকদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দেশজুড়ে লক্ষাধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। অনেক কেন্দ্রেই বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা, পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় টহল দিচ্ছে র্যা ব ও বিজিবি। প্রশাসনের দাবি, যেকোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা কঠোর হাতে দমন করা হবে।
অন্যদিকে জামাতের তরফে তারেকের আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে ইচ্ছাকৃতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। দলের দাবি, নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করছে এবং কোথাও কোনও অনিয়মের প্রমাণ মেলেনি। প্রশাসনও জানিয়েছে, যেখানেই অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এই নির্বাচনকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলেও কৌতূহল রয়েছে। বিদেশি পর্যবেক্ষক ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা বিভিন্ন কেন্দ্রে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তাঁদের উপস্থিতি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলেই মনে করছে কমিশন। দিনভর টানটান উত্তেজনার মধ্যেই অধিকাংশ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রশাসনের দাবি। তবে বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলি রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। ভোট শেষে ব্যালট ও ইভিএম সুরক্ষিতভাবে গণনাকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নির্বাচন শুধু সরকার গঠনের লড়াই নয়, বরং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার পর দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো কতটা শক্ত ভিতের উপর দাঁড়িয়ে আছে, তারও বড় পরীক্ষা। তরুণ ভোটারদের বড় অংশ এবার প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। তাঁদের অংশগ্রহণ ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেবে। বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে এই মুহুর্তে সবথেকে বড় প্রতিদ্বন্দী তারেক রহমানের বিএনপি এবং শফিকুর রহমানের ইসলামিক গোষ্টী জামাত। একদিকে তারেক দেশের সার্বিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি অন্যদিকে জামাতের ইসলামকেন্দ্রীক রাজনীতি। দীর্ঘ অশান্তি, ঝামেলার পর বিশেষ গুরুত্বপুর্ণ এই নির্বাচনে কাকে বেছে নেবে বাংলাদেশ, এখন নজর সেই দিকে।
