ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলাদেশজুড়ে ফের চরম উত্তেজনা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চলা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সোমবার যে রায় দেবে, তা ঘিরে রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন জেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ সতর্কতার পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গত জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় নানা অভিযোগে হাসিনার বিরুদ্ধে যে মামলা দায়ের করা হয়, সেই মামলার পরিণতি ঘোষণার আগে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণ, সরকারি যান ঘিরে হামলার মতো ঘটনা আবার মাথা তুলতে শুরু করেছে। ইউনূস প্রশাসন আশঙ্কা করছে, রায় ঘোষণার দিন পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে, ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষ নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
ঢাকার মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ফার্মগেট, উত্তরা প্রায় সব ব্যস্ত অঞ্চলে পুলিশের টহল বেড়েছে। আধাসামরিক বাহিনী র্যাশব শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে জোরদার মোতায়েন। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, যে কোনও সরকারি সম্পত্তি বা যানবাহনে হামলার চেষ্টা বা অগ্নিসংযোগের ঘটনা ধরা পড়লে সঙ্গে সঙ্গে ‘শুট অ্যাট সাইট’ নির্দেশ প্রয়োগ করা হবে। প্রশাসনের দাবি, ইতিমধ্যেই একাধিক জেলায় অ্যাম্বুল্যান্স ও বেসরকারি গাড়িতে আগুন লাগানোর চেষ্টা হয়েছে এবং কয়েকটি এলাকায় ককটেল ও ছোট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে, যার ফলে আতঙ্ক ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মনে।
ঢাকায় সোমবার সকাল থেকেই টানটান উত্তেজনার আবহ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে, আর সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা রাজধানী কার্যত কঠোর নিরাপত্তার বলয়ে আবদ্ধ। আদালতের আশপাশে হাইকোর্ট মাজার গেট, প্রতিটি প্রবেশপথে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। পুলিশ, র্যা ব, বিজিবি এবং সেনা সদস্যদের মোতায়েন স্পষ্ট বুঝিয়ে দিচ্ছে, প্রশাসন কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ।
ট্রাইব্যুনালের আশপাশের সড়কগুলো আজ স্বাভাবিক দিনের তুলনায় অনেক ফাঁকা। সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত, আর যারা বের হয়েছেন, তাঁদের পরিচয়পত্র ও ব্যাগপত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে নিয়ম মেনে। প্রবেশপথে ব্যক্তিগত গাড়ি, লং-ডিস্ট্যান্স বাস, এমনকি ট্রাক পর্যন্ত থামিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। মোটরসাইকেল চালকদের ওপর বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে। সাম্প্রতিক অস্থিরতার ঘটনায় প্রায়ই দুই-চাকার যান ব্যবহৃত হয়েছে।
মটিজহিল, গুলিস্তান ও কারওয়ান বাজারের মতো ব্যস্ত এলাকায়ও নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত টহল চোখে পড়ছে। মোবাইল ইউনিট নিয়মিত ঘুরে বেড়াচ্ছে। রাস্তার মোড়গুলোতে যে কোনও সম্ভাব্য ভিড় গঠনের আগেই ছত্রভঙ্গ করা হচ্ছে। শহরের আকাশে হেলিকপ্টার নজরদারিও আজ বাড়ানো হয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল চত্বরে সাংবাদিক ও আইনজীবীরা প্রবেশের আগে একাধিক পর্যায়ে তল্লাশির মুখোমুখি হচ্ছেন। রায় ঘোষণার সময় যাতে কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা বা হামলার চেষ্টা না হয়, সে জন্য আদালত ভবন ও আশপাশে বিশেষ নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে। প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে উঠলে দ্রুত সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।
অন্য দিকে, রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলেও আওয়ামী লীগের ঘাঁটি এলাকাগুলিতে অনুগামীদের নানারকম সমাবেশ এবং মশাল মিছিল দেখা যাচ্ছে। জাতীয় মহাসড়কের ধারে কয়েক হাজার মানুষ রবিবার সন্ধ্যায় মিছিল করেন, যেখানে তাঁরা শেখ হাসিনার প্রতি সমর্থন জানিয়ে প্রশাসনের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পুলিশ মাঝে মাঝে এই জমায়েত সরানোর চেষ্টা করলেও বহু জায়গায় পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গিয়েছে, ফলে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
